ইসলামী পরিভাষায় শহীদ বলতে কী বুঝায়? কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
ইসলামী পরিভাষায় শহীদ বলতে কী বুঝায়? কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
ইসলামে "শহীদ" শব্দটির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন শহীদের সম্মান শুধু এই পৃথিবীতেই নয়, বরং আখিরাতেও বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত। কুরআনুল কারিম এবং সহিহ হাদিসে শহীদের মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য ও প্রতিদান সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় "শহীদ" শব্দটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হয় অথবা আবেগের বশে এমন ব্যক্তিদেরও শহীদ বলা হয়, যাদের সম্পর্কে ইসলামী শরিয়তে নিশ্চিতভাবে এমন ঘোষণা দেওয়া যায় না।
তাই একজন মুসলমানের জন্য শহীদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কে শহীদ, শহীদের কত প্রকার, কী কারণে কেউ শহীদের মর্যাদা লাভ করেন এবং শহীদদের সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা কী—এসব বিষয় জানা ঈমান ও আকীদার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।এই আর্টিকেলে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে শহীদের প্রকৃত অর্থ, প্রকারভেদ ও মর্যাদা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
শহীদ শব্দের অর্থ
"শহীদ" (شهيد) শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর মূল ধাতু "শাহিদা", যার অর্থ—
সাক্ষী হওয়া
উপস্থিত থাকা
সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করা
ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা রক্ষার পথে জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিকে শহীদ বলা হয়।
তবে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণকারীই শহীদ নন; সহিহ হাদিসে এমন আরও কিছু ব্যক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করলে শহীদের সওয়াব লাভ করেন।
কুরআনের আলোকে শহীদের মর্যাদা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা শহীদদের বিশেষ সম্মান দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।"
— সূরা আল-বাকারা: ১৫৪
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শহীদদের জীবন সাধারণ মানুষের মতো নয়। তারা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত।
আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন—
"যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত।"
— সূরা আলে ইমরান: ১৬৯
এই আয়াত শহীদদের আখিরাতের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিস
রাসূলুল্লাহ (সা.) শহীদদের মর্যাদা সম্পর্কে বহু হাদিসে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন—
"জান্নাতে প্রবেশ করার পর কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে না। কিন্তু শহীদ চাইবে তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে সে আবার আল্লাহর পথে শহীদ হতে পারে।"
— সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শহীদদের জন্য আল্লাহ এমন সম্মান ও প্রতিদান রেখেছেন, যা অন্য কোনো নেককার বান্দার জন্যও তুলনামূলকভাবে অনন্য।
শহীদ কত প্রকার?
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী শহীদ সাধারণত তিন প্রকার।
১. শহীদে হাকীকী (প্রকৃত শহীদ)
যিনি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইসলামের শত্রুর হাতে নিহত হন এবং যার নিয়ত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা—তাকে শহীদে হাকীকী বলা হয়।
এই শহীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ বিধান রয়েছে।
২. শহীদে হুকমী
এমন ব্যক্তি, যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত না হলেও সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিশেষ কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শহীদের সওয়াব লাভ করেন।
যেমন—
মহামারিতে মৃত্যু
পানিতে ডুবে মৃত্যু
পেটের রোগে মৃত্যু
ভবন ধসে মৃত্যু
সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণকারী নারী (হাদিসে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী)
এদেরকে আখিরাতে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হবে, তবে দাফন-কাফনের বিধান সাধারণ মুসলমানের মতোই।
৩. শহীদে দুনিয়া
এমন ব্যক্তি, যিনি বাহ্যিকভাবে ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন বলে বিবেচিত হন, কিন্তু তাঁর নিয়ত যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি না হয়ে দুনিয়াবি স্বার্থ, খ্যাতি বা সম্পদ অর্জন হয়, তবে তিনি কেবল দুনিয়ার বিধানে শহীদের মতো গণ্য হবেন; আখিরাতে প্রকৃত শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন না।
এ কারণেই ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃত শহীদের শর্ত
কেবল মৃত্যুর ধরনই কাউকে শহীদ বানায় না। ইসলামে শহীদের মর্যাদা অর্জনের জন্য কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে।
১. ঈমান
শহীদ হওয়ার জন্য ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী হতে হবে।
২. নিয়তের বিশুদ্ধতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
"নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।"
— সহিহ আল-বুখারি
যদি কেউ লোক দেখানো, জাতীয়তাবাদ, প্রতিশোধ, খ্যাতি বা সম্পদের জন্য যুদ্ধ করে, তবে সে আল্লাহর কাছে শহীদের মর্যাদা পাবে না।
৩. শরিয়তসম্মত কারণ
ইসলাম কোনো অন্যায় হত্যা বা সন্ত্রাসকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। নিরপরাধ মানুষ হত্যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
শহীদদের বিশেষ মর্যাদা
কুরআন ও হাদিসে শহীদদের জন্য বহু বিশেষ সম্মানের কথা এসেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি লাভ।
জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা।
কবরের আযাব থেকে নিরাপত্তা (সহিহ হাদিসে বর্ণিত)।
কিয়ামতের দিনের ভয় থেকে নিরাপত্তা।
আল্লাহর নিকট বিশেষ রিযিকপ্রাপ্ত হওয়া।
তাঁদের রক্ত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
তবে এসব মর্যাদা কেবল তাদের জন্যই, যাদের সম্পর্কে শরিয়তের দলিল অনুযায়ী শহীদের মর্যাদা প্রযোজ্য।
শহীদ সম্পর্কে ভুল ধারণা
বর্তমান সময়ে "শহীদ" শব্দটি অনেক ক্ষেত্রেই আবেগ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হয়। অথচ ইসলামে কাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ ঘোষণা করার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, নির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির আখিরাতের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া মানুষের কাজ নয়, যদি না কুরআন বা সহিহ হাদিসে তার প্রমাণ থাকে। তাই সাধারণ মুসলমানদের উচিত এমন ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর রহমতের আশা করা, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে শহীদ ঘোষণা না করা।
ইসলামে শহীদ এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেন অথবা শরিয়তে বর্ণিত বিশেষ কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করে শহীদের সওয়াব লাভ করেন। শহীদদের মর্যাদা কুরআন ও সহিহ হাদিসে অত্যন্ত উচ্চভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে এই মর্যাদা অর্জনের জন্য বিশুদ্ধ ঈমান, সঠিক নিয়ত এবং শরিয়তসম্মত আমল অপরিহার্য।
ইসলামী পরিভাষায় শহীদ বলতে কী বুঝায়?
কোন কোন মৃত্যুকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে?
অনেকেই মনে করেন, শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তিই শহীদ। কিন্তু সহিহ হাদিসে এমন কিছু মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি আখিরাতে শহীদের সওয়াব লাভ করবেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"পাঁচ ধরনের ব্যক্তি শহীদ: মহামারিতে মৃত ব্যক্তি, পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তি।"
— সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, শহীদের মর্যাদা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু বিশেষ অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীদেরও এ মর্যাদা প্রদান করা হয়।
শহীদের দাফন-কাফনের বিধান
যুদ্ধক্ষেত্রে আল্লাহর পথে নিহত প্রকৃত শহীদের জন্য ইসলামে বিশেষ বিধান রয়েছে।
ফিকহ অনুযায়ী—
তাঁকে সাধারণত গোসল দেওয়া হয় না (নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)।
তিনি যে পোশাকে শহীদ হয়েছেন, সেই পোশাকেই দাফন করা হয় (প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর)।
জানাজা সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও উভয় মতই ইসলামী ফিকহে গ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে, যেসব ব্যক্তি আখিরাতে শহীদের সওয়াব পাবেন কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হননি (শহীদে হুকমী), তাঁদের সাধারণ মুসলমানের মতো গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন করা হয়।
শহীদের পুরস্কার
সহিহ হাদিসে শহীদের জন্য অসংখ্য পুরস্কারের কথা এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
১. জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা
শহীদদের জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারিত রয়েছে।
২. কবরের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা
হাদিসে এসেছে, প্রকৃত শহীদ কবরের ফিতনা ও শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবেন।
৩. কিয়ামতের ভয় থেকে নিরাপত্তা
আল্লাহ তাআলা শহীদদের কিয়ামতের কঠিন পরিস্থিতিতে বিশেষ নিরাপত্তা দান করবেন।
৪. আল্লাহর নৈকট্য
কুরআনে বলা হয়েছে, শহীদরা তাঁদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত।
৫. সর্বোচ্চ প্রতিদানের আশা
শহীদদের জন্য আল্লাহ এমন প্রতিদান রেখেছেন, যা মানুষের কল্পনারও অতীত।
শহীদ সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: যেকোনো দুর্ঘটনায় মারা গেলেই শহীদ
এ ধারণা সঠিক নয়। সব দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু শহীদের মর্যাদা পায় না। কেবল কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত অবস্থাগুলোই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ভুল ধারণা ২: রাজনৈতিক কারণে নিহত সবাই শহীদ
ইসলামী শরিয়তে কাউকে শহীদ ঘোষণা করার জন্য তার ঈমান, নিয়ত এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি বিবেচ্য। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক আবেগের ভিত্তিতে কাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলা সঠিক নয়।
ভুল ধারণা ৩: আত্মহত্যাকারী শহীদ
ইসলামে আত্মহত্যা একটি বড় কবিরা গুনাহ। তাই আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা লাভ করেন—এমন কোনো প্রমাণ কুরআন বা সহিহ হাদিসে নেই।
ভুল ধারণা ৪: সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহত ব্যক্তি শহীদ
ইসলাম নিরপরাধ মানুষ হত্যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।"
— সূরা আল-মায়িদাহ: ৩২
অতএব, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা নিরপরাধ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে শহীদ বলা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
শহীদের মর্যাদা নির্ধারণে সতর্কতা
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বা শহীদ বলা উচিত নয়, যদি না কুরআন বা সহিহ হাদিসে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকে।
তাই কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে আমরা তার জন্য আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনা করি এবং আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদানের আশা রাখি।
একজন মুসলমানের করণীয়
শহীদের মর্যাদা লাভের আশা করা অবশ্যই ভালো, তবে তার জন্য প্রয়োজন—
বিশুদ্ধ আকীদা ও ঈমান।
ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন।
হারাম ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
মানুষের অধিকার রক্ষা করা।
সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে অবিচল থাকা।
সব কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া।
ইখলাস বা বিশুদ্ধ নিয়ত বজায় রাখা।
শহীদদের থেকে আমাদের শিক্ষা
শহীদদের জীবন ও আত্মত্যাগ আমাদের শেখায়—
আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস রাখতে।
সত্য প্রতিষ্ঠায় সাহসী হতে।
দুনিয়ার স্বার্থের চেয়ে আখিরাতকে অগ্রাধিকার দিতে।
ধৈর্য, ত্যাগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে।
ইসলামি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে।
ইসলামী পরিভাষায় শহীদ এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেন অথবা কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিশেষ কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করে শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। শহীদদের সম্মান অত্যন্ত উচ্চ হলেও, কাউকে শহীদ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আবেগ নয়; বরং কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং ইসলামী আকীদার নির্দেশনা অনুসরণ করা অপরিহার্য।
একজন মুমিনের উচিত শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, নিজের ঈমানকে দৃঢ় করা এবং এমন জীবন গঠন করা, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হয় জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ইসলামে শহীদ বলতে কাকে বোঝায়?
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর পথে জীবন উৎসর্গকারী অথবা কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিশেষ কারণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে শহীদ বলা হয়।
২. শহীদ কি জীবিত?
কুরআন অনুযায়ী শহীদরা তাঁদের প্রতিপালকের কাছে বিশেষ জীবন লাভ করেন এবং রিযিকপ্রাপ্ত হন (সূরা আলে ইমরান: ১৬৯)। এ জীবন দুনিয়ার জীবনের মতো নয়; বরং বরযখের বিশেষ জীবন।
৩. সব দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী কি শহীদ?
না। কেবল কুরআন ও সহিহ হাদিসে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীরাই শহীদের সওয়াব লাভ করেন।
৪. আত্মহত্যাকারী কি শহীদ?
না। আত্মহত্যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের মৃত্যুকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার কোনো দলিল নেই।
৫. শহীদের সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য কী?
বিশুদ্ধ ঈমান, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিক নিয়ত এবং শরিয়তসম্মত জীবনযাপন।
তথ্যসূত্র
পবিত্র কুরআন
সূরা আল-বাকারা (২:১৫৪)
সূরা আলে ইমরান (৩:১৬৯–১৭১)
সূরা আন-নিসা (৪:৬৯)
সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৩২)
সহিহ হাদিস
সহিহ আল-বুখারি
সহিহ মুসলিম
সুনান আবু দাউদ
সুনান আত-তিরমিজি
সুনান আন-নাসাঈ
ইমাম নববী (রহ.) – রিয়াদুস সালিহীন
ইবনে হাজার আল-আসকালানী – ফাতহুল বারী
ইবনে কাসির – তাফসিরুল কুরআনিল আজিম
অনিয়মিত মাসিক: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা: শারীরিক, মানসিক ও বৈবাহিক জীবনে এর গুরুত্ব
টেস্টোস্টেরন বা যৌন হরমোন বাড়াতে যে খাবার খাবেন। টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর খাবার
যৌ*ন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত খাদ্যাভ্যাস ও পূর্ণাঙ্গ গাইড
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে কি?
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান চুষতে পারবে কি?
স্ত্রীর লজ্জা*স্থান চো*ষা যাবে কি? স্ত্রীর লজ্জা*স্থানে মুখ দেওয়া যাবে কি?
স্ত্রীর দুধ পান করা যাবে কিনা? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
স্বামী স্ত্রীর যৌন মিলন বা সহবাসের নিয়ম
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
কিছু ভন্ড হুজুর দের তালিকা | চিনে রাখুন। ভণ্ড ধর্মীয় বক্তা চেনার উপায়
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
ইসলামী জ্ঞান, শিক্ষা ও সচেতনতার নির্ভরযোগ্য বাংলা প্ল্যাটফর্ম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আমি জাইমা আরোহি। IslamiTune-এ আপনাকে আন্তরিক স্বাগতম।
লেখক: জাইমা আরোহি
IslamiTune একটি বাংলা ইসলামিক শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট। আমাদের লক্ষ্য হলো কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং গ্রহণযোগ্য ইসলামী স্কলারদের ব্যাখ্যার আলোকে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান সহজ, সুন্দর ও বোধগম্য ভাষায় বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।


