স্ত্রীর দুধ পান করা যাবে কি? স্ত্রীর দুধ পান করলে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে? | শায়খ আহমাদুল্লাহ | Shaikh Ahmadullah

ইসলাম ধর্মের আলোকে: স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?

 

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত সম্মানজনক ও পবিত্র। তবে এ সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—স্বামী যদি স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে, তাহলে তা কি হারাম? আর এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে কুরআন, হাদিস এবং ইসলামী ফিকহের আলোকে বিষয়টি বুঝতে হবে।



আল্লাহ তাআলা বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, দয়া ও শান্তি সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন—

"আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।"

(সূরা আর-রূম: ২১)

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের অনেক বিষয়ই ইসলামে বৈধ করা হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই স্ত্রীর দুধ পান করার বিধান সম্পর্কেও শরিয়তের আলোকে জানা জরুরি।


স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম?

ইসলামী ফকীহদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

প্রথম মত: এটি মাকরূহ, তবে হারাম নয়

হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের মতে, স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা শরিয়তে উৎসাহিত নয় এবং এটি মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। তবে এটি এমন হারাম নয়, যার কারণে বিবাহ ভেঙে যাবে।

কারণ, কুরআন বা সহিহ হাদিসে এমন কোনো স্পষ্ট দলিল নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে সে তার দুধ-সন্তান হয়ে যাবে।


দ্বিতীয় মত: প্রয়োজন ছাড়া এ কাজ করা উচিত নয়

অনেক সমসাময়িক আলেম বলেন, স্ত্রীর বুকের দুধ মূলত নবজাতক শিশুর খাদ্য। তাই বিনোদন বা অভ্যাসবশত এটি পান করা ইসলামী আদবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা সামান্য পরিমাণ মুখে চলে গেলে এতে কোনো গুনাহ বা বৈবাহিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে না।


স্ত্রী কি স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, হারাম হয়ে যায় না।

এর কারণ হলো ইসলামে রাযাআত (দুধের সম্পর্ক) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

"তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের দুধ-মাতারা এবং দুধ-বোনেরা।"

(সূরা আন-নিসা: ২৩)

এ আয়াতে দুধের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলামী শরিয়তে এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শিশুর বয়সের শর্ত রয়েছে।


দুধের সম্পর্ক (রাযাআত) কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

"যে দুধ ক্ষুধা নিবারণ করে এবং হাড় গঠন করে, সেই দুধ পান করার মাধ্যমেই দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।"

(তিরমিজি, আবু দাউদ)

আরেক হাদিসে এসেছে—

"দুধপান তখনই কার্যকর, যখন তা দুধ ছাড়ার আগের সময়ে হয়।"

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ—

  • শিশুর বয়স সাধারণত দুই বছরের কম হতে হবে।
  • সেই সময়ে দুধ পান করলে রাযাআত প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।

স্বামী যদি ভুলবশত দুধ পান করে ফেলেন?

অনেক সময় সন্তানকে দুধ পান করানোর সময় বা অন্য কোনো কারণে সামান্য দুধ স্বামীর মুখে চলে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে—

  • কোনো গুনাহ নেই।
  • স্ত্রী হারাম হয়ে যায় না।
  • নতুন করে বিয়ে করতে হয় না।
  • তালাকও হয়ে যায় না।

ইচ্ছাকৃতভাবে দুধ পান করলে কী হবে?

ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর দুধ পান করলে—

  • অধিকাংশ আলেমের মতে স্ত্রী হারাম হন না।
  • বিবাহ অটুট থাকে।
  • তবে এ কাজ ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং তা থেকে বিরত থাকা উত্তম।

চার মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি

হানাফি মাজহাব

হানাফি ফকীহদের মতে—

  • প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দুধ পান করলে রাযাআত প্রতিষ্ঠিত হয় না।
  • স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হন না।

শাফেয়ি মাজহাব

শাফেয়ি মাজহাবেও বলা হয়েছে—

  • দুই বছরের পর দুধ পান করলে রাযাআতের বিধান কার্যকর হয় না।
  • তাই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বহাল থাকে।

মালেকি মাজহাব

মালেকি মাজহাবেও শিশুর বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না।


হাম্বলি মাজহাব

হাম্বলি আলেমদের মতও একই—শিশুকাল ছাড়া অন্য সময়ে দুধ পান করলে দুধের আত্মীয়তা সৃষ্টি হয় না।


প্রাপ্তবয়স্ক দুধপানের হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি

কিছু মানুষ সাহলা বিনতে সুহাইল (রা.)-এর ঘটনা উল্লেখ করেন।

সেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে দুধ পান করানোর কথা এসেছে।

কিন্তু অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ বলেন—

  • এটি একটি বিশেষ ঘটনা ছিল।
  • এটি সাধারণ বিধান নয়।
  • অধিকাংশ সাহাবি ও ইমামগণ এটিকে সর্বজনীন আইন হিসেবে গ্রহণ করেননি।

ইসলাম কেন শিশুর দুধের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে?

মায়ের দুধ শিশুর—

  • শারীরিক বৃদ্ধি,
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা,
  • মানসিক বিকাশ

এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই শরিয়ত শিশুর দুধপানের মাধ্যমে আত্মীয়তার একটি বিশেষ বিধান নির্ধারণ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এ উদ্দেশ্য বিদ্যমান নয়।


প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১

"স্বামী স্ত্রীর দুধ খেলেই স্ত্রী মা হয়ে যায়।"

এটি ভুল ধারণা।


ভুল ধারণা ২

"এক ফোঁটা দুধ গেলেই বিবাহ ভেঙে যায়।"

এটিও ভুল।


ভুল ধারণা ৩

"নতুন করে বিয়ে পড়াতে হবে।"

এ দাবিরও কোনো গ্রহণযোগ্য শরয়ি দলিল নেই।


ইসলামী আদব কী বলে?

যদিও স্ত্রী হারাম হয়ে যান না, তবুও মুসলিম দম্পতির উচিত—

  • শালীনতা বজায় রাখা।
  • এমন কাজ এড়িয়ে চলা যা ইসলামী রুচি ও আদবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
  • বৈবাহিক জীবনে পারস্পরিক সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।

আলেমদের সারসংক্ষেপ

অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য আলেমের মত অনুযায়ী—

  • প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর দুধ পান করার মাধ্যমে দুধের আত্মীয়তা সৃষ্টি হয় না।
  • স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যান না।
  • বিবাহ বহাল থাকে।
  • তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী যদি স্ত্রীর বুকের দুধ পান করেন বা ভুলবশত দুধ মুখে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যান না এবং তাদের বিবাহও ভঙ্গ হয় না। কারণ শরিয়তে দুধের সম্পর্ক (রাযাআত) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শিশুকালে, সাধারণত দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধ পান করার শর্ত রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রযোজ্য নয়।

তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর দুধ পান করা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং তা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। তাই মুসলিম দম্পতির উচিত শরিয়তের সীমারেখা ও ইসলামী আদব বজায় রেখে বৈবাহিক জীবন পরিচালনা করা।

সূত্র (সংক্ষেপে):

  • আল-কুরআন: সূরা আন-নিসা ৪:২৩, সূরা আর-রূম ৩০:২১
  • সহিহ আল-বুখারি
  • সহিহ মুসলিম
  • সুনান আবু দাউদ
  • জামে আত-তিরমিজি
  • ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ইবনু কুদামাহর আল-মুগনি, ইমাম নববীর শারহু সহিহ মুসলিম প্রভৃতি ফিকহগ্রন্থ।
=== 
প্রশ্নঃ স্ত্রীর বুকের দু*ধ পান করে ফেললে কি স্বামীর জন্য স্ত্রী হারাম হয়ে যায়? নিজের স্ত্রীর বুকের দু*ধ খাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি?
 
 
  
এখানে উল্লেখ্য যে,আমার একটি নবজাতক রয়েছে এবং সে খাওয়ার পরেও দুধ উদ্বৃত্ত্ব থেকে যায়…
বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব.
 
জবাব:
بسم الله الرحمن الرحيم
নিজের স্ত্রীর দুধ পান করলে স্ত্রী স্বামীর উপর হারাম হয়না।
কারণ সর্বোচ্চ ২বছর বয়সে দুধ পান করলে দুধ মায়ের সম্পর্ক স্থাপন হয়।
এর পর পান করলে হয়না।
তাই স্বীয় স্ত্রীর দুধ পান করার দ্বারা আপনার স্ত্রী আপনার উপর হারাম হয়ে যায়নি।
কিন্তু স্ত্রী স্তনের দুধ পান করা একটি মারাত্মক গোনাহের কাজ।
একাজ থেকে বিরত থাকুন।
দলিল:
قوله تعالى
- وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلاَدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَن
ْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ (سورة البقرة-233
وفى رد المحتار-( ولم يبح الإرضاع بعد مدته )
لأنه جزء آدمي والانتفاع به لغير ضرورة حرام على الصحيح
(الدر المختار مع رد المحتار-كتاب النكاح، باب الرضاع-4/397
প্রামান্য গ্রন্থাবলী
১. সূরা বাক্বারা-২৩৩
২. সূরা আহকাফ-১৫
৩. ফাতওয়ায়ে শামী-৪/৩৯৭
৪. তাফসীরে মাযহারী-১/৩৫৬
৫. কেফায়াতুল মুফতী-৫/১৬২
প্রশ্নঃ স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ পান করে থাকে,
তাহলে তাদের বিবাহ কি ভেঙ্গে যাবে?
--------------------­--------------------­-------
উত্তরঃ সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতের অর্থঃ
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের
মাতা,কন্যা,বোন,ফুফু,­খালা,ভ্রাতৃকন্যা,ভাগ­িনীকন্যা,
(এবং সে মাতা,যে তোমাদের স্তন পান করিয়েছে)
তোমাদের দুধবোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা,
তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা-যারা তোমাদের লালন পালনে আছে।
যদি তাদের সাথে সহবাস করে না থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোণাহ নেই।
তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা, কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে।
নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী,দয়ালু।
এখন চিহ্নিত অংশের তাফসীরঃ
এ অংশে বলা হয়েছেঃ যেসব নারীর দুধ পান করা হয়,
জন্মধাত্রী মা না হলেও বিবাহ হারাম হওয়ার ব্যাপারে জননীর পর্যায়ভূক্ত এবং তাদের সাথে বিয়ে হারাম।
অল্প দুধ পান করুক বা বেশী,
একবার পান করুক বা একাধিকবার, সর্ববস্থায় তারা হারাম হয়ে যায়।
ফিকাহবিদগণের পরিভাষায় একে
"হুরমতে রেযাআত"বলা হয়।
তবে এতটুকু স্মরণ রাখা জরুরী যে,শিশু অবস্থায় দুধ
পান করলেই এই "হুরমতে রেযাআত" কার্যকারী হবে।
রাসুলুল্লাহ বলেনঃ
ইন্নামার রাদাআতা মিনাল মাযাআহ।
অর্থাত্, দুধ পানের কারণে যে অবৈধতা প্রমাণিত হয়,
তা সে সময়ে দুধ পান করলে হবে, যে সময় দুধ পান করে শিশু শারিরীক দিক দিয়ে বর্ধিত হয়।
(বোখারী ও মুসলিম)
ইমাম আবু হানীফার মতে এই সময়কাল হচ্ছে শিশুর
জন্মের পর থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত।
ইমাম আবু হানীফার বিশিষ্ট শাগরীদ ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদসহ অন্যান্য ফিকাহবিদগণের মতে
মাত্র দুই বছরের ভিতরে দুধ পান করলে অবৈধতা প্রমাণিত হবে।
কোন বালক বালিকা যদি এবয়সের পর কোন স্ত্রীলোকের পান করে,
তবে এতে দুধ পানজনিত অবৈধতা প্রমাণিত হবে না।
সুতরাং স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে বিবাহ ভঙ্গ হবেনা।
কারণ,
যেহেতু স্বামীর বয়স ২ বা আড়াই বছরের উর্ধ্বে।
এব্যাপারে একটি মাসআলাঃ
ফাতওয়ায়ে আলমগীরির ১ নং খন্ড ৩৪৪ নং পৃষ্ঠায়
হযরত আশরাফ আলী থানভী তাঁর গ্রন্থ
"বেহেশতি জেওর"
এর ৪র্থ নম্বর খন্ড ১৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ-
যুবক স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ পান করে তাহলে স্ত্রী তার মা হবেনা,
তার জন্য হারাম হবেনা ঠিকই কিন্তু এরূপ করা ভীষণ পাপের কাজ।
কেননা, দু'বছর বয়সের পর মানুষের দুধ পান করা পুরোপুরি হারাম।
সন্তান মায়ের স্তনবৃন্ত চুষে দুগ্ধপান করে।
মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ?
পরন্ত অসাবধানতায় যদি পেতে দুধ চলে যায়, তাহলে কি স্ত্রী মায়ের মত হারাম হয়ে যাবে?
স্বামীর জন্য বৈধ তার স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চোষণ করে উভয়ের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করা।
সে ক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর দুধ তার পেটে চলে যায়, তাহলে তাতে কোন প্রকার ক্ষতি হয় না এবং স্ত্রী তার মা হয়ে যায় না।
কারণ দুধ পানের মাধ্যমে হারাম হওয়ার যে সব শর্ত আছে, তা হলঃ
১। দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধ পান করতে হবে।
সুতরাং তার পরে বড় অবস্থায় দুধ পান করলে হারাম হবে না।
২। পাঁচবার পান করতে হবে।
সুতরাং ২/৪ বার পান করলে কোন প্রভাব পড়ে না।
আর বড় অবস্থায় ৫ বারের বেশী পান করলেও কোন ক্ষতি হয় না।
(ইবনে বায, ইবনে উষাইমীন)
আল্লাহপাক সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
আমীন ছুম্মা আমীন.........
=================================================
আসসালামু আলাইকুম,
১) স্ত্রীর দুধ খাওয়া হারাম এই কথা বলার/জানার পরো কোন স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ পান করে, তাহলে ওই স্ত্রী কি স্বামাঈর জন্য হারাম হয়ে যাবে?
২) হারাম অথবা ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে এমন কাজকে হারাম অথবা নিষেধ মনে না করে অথবা গাফলতি করে ওই কাজ যদি করা হয় তাহলে ওই ব্যক্তি কি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে, এবং বিয়েও কি বাতিল হয়ে যাবে?
এই পরিস্থিতিতে করণীয় কি হবে?

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
2239 নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,
"মানুষের জন্য মানুষের দুধ খাওয়া হারাম।শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনে শিশুর জন্য মায়ের দুধকে হালাল রাখা হয়েছে।সুতরাং স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করা হারাম।এ ব্যাপারে প্রায় সকল উলামায়ে কেরাম একমত।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।"(জাওয়াহিরুল ফিকহহ-৭/৪৬) 

(১)স্ত্রীর দুধ খাওয়া হারাম।কেননা দুধ মানুষের শরীরের অংশ।এটা জানা সত্বেও যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীর দুধ পান করে নেয়,তাহলে ঐ স্ত্রী যদিও তার স্বামীর জন্য হারাম হবে না।তবে এমন কাজ সর্বদা হারাম বলেই বিবেচিত হবে।

(২)জেনেবুঝে কোনো হারামকে হালাল মনে করা এবং হালালকে হারাম মনে করা স্পষ্টত কুফরী।এর জন্য অবশই ঈমান নবায়ন করতে হবে।কালিমা পড়ে ঈমানকে নবায়ন করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ

 ======

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url