মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ? অসাবধানতায় যদি মুখে দুধ চলে আসে, তাহলে কি স্ত্রী মায়ের মত হারাম হয়ে যাবে? কুরআন সুন্নাহর আলোকে
মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ? অসাবধানতায় যদি মুখে দুধ চলে যায়, তাহলে কি স্ত্রী মায়ের মত হারাম হয়ে যাবে?
মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ? ইসলাম ধর্মের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও চাহিদাকে অস্বীকার করে না; বরং সেগুলোকে বৈধ ও সুন্দর পদ্ধতিতে পূরণ করার নির্দেশনা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামে একটি পবিত্র সম্পর্ক, যেখানে ভালোবাসা, দয়া, সম্মান ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক মুসলিম দম্পতির মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে— মিলনের পূর্বে স্বামী কি স্ত্রীর স্তন চোষণ করতে পারবেন? এটি কি ইসলামসম্মত?
ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো, স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য বৈধ। দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে মূলত অনুমতি রয়েছে, তবে তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে হতে হবে।
কোরআনের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)
এই আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
আরও আল্লাহ বলেন—
"আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।"
(সূরা আর-রূম: ২১)
এ থেকে বোঝা যায়, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু দায়িত্ব নয়; বরং এটি ভালোবাসা ও প্রশান্তির একটি মাধ্যম।
স্তন চোষণ সম্পর্কে ইসলামের বিধান
ইসলামী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়গুলো সাধারণত বৈধ, যতক্ষণ না কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্ত্রীর শরীর স্বামীর জন্য বৈধ। তাই মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ বা ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে স্পর্শ করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ বলে অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় না।
বরং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বামীদের স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ, ভালোবাসা ও কোমলতার শিক্ষা দিয়েছেন।
দাম্পত্য সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।"
(জামে আত-তিরমিজি)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, একজন উত্তম স্বামী শুধু আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না; বরং স্ত্রীর মানসিক ও আবেগীয় প্রয়োজনের প্রতিও যত্নশীল হন।
কোন বিষয়গুলো ইসলামে নিষিদ্ধ?
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু সীমা নির্ধারণ করেছে।
১. মাসিক অবস্থায় সহবাস
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"মাসিক অবস্থায় তাদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)
অর্থাৎ মাসিক চলাকালীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ।
২. পেছনের পথে যৌন সম্পর্ক
ইসলামে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা বৈধ হলেও আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
৩. ক্ষতি বা জোর করা
দাম্পত্য সম্পর্ক ভালোবাসা, সম্মতি ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোনো পক্ষের অস্বস্তি বা অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করা ইসলামের উত্তম চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈধ ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ রয়েছে। মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ সম্পর্কে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহতে কোনো নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় না। তাই এটি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা প্রকাশের একটি বৈধ বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
তবে দাম্পত্য জীবনে সবসময় ইসলামী আদব, লজ্জাশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রাখা জরুরি।
রেফারেন্স:
আল-কোরআন: সূরা আল-বাকারা ১৮৭, ২২২; সূরা আর-রূম ২১
জামে আত-তিরমিজি: পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ সম্পর্কিত হাদিস
সতর্কতা: ইসলামী বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেম বা ইসলামি গবেষকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। বিভিন্ন মাজহাবের ফিকহি ব্যাখ্যায় কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে।
আরও পড়ুনঃ
অনিয়মিত মাসিক: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা: শারীরিক, মানসিক ও বৈবাহিক জীবনে এর গুরুত্ব
টেস্টোস্টেরন বা যৌন হরমোন বাড়াতে যে খাবার খাবেন। টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর খাবার
যৌ*ন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত খাদ্যাভ্যাস ও পূর্ণাঙ্গ গাইড
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে কি?
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান চুষতে পারবে কি?
স্ত্রীর লজ্জা*স্থান চো*ষা যাবে কি? স্ত্রীর লজ্জা*স্থানে মুখ দেওয়া যাবে কি?
স্ত্রীর দুধ পান করা যাবে কিনা? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
স্বামী স্ত্রীর যৌন মিলন বা সহবাসের নিয়ম
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
কিছু ভন্ড হুজুর দের তালিকা | চিনে রাখুন। ভণ্ড ধর্মীয় বক্তা চেনার উপায়
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ? ইসলামের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাগুলোকে অস্বীকার করে না; বরং বৈধ ও সুন্দর পদ্ধতিতে তা পূরণের শিক্ষা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামে একটি পবিত্র বন্ধন। কোরআন ও সুন্নাহতে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, মমতা, পারস্পরিক সম্মান ও ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
অনেক মুসলিম দম্পতির মনে প্রশ্ন আসে—মিলনের পূর্বে স্বামী কি স্ত্রীর স্তন চোষণ করতে পারবে? এটি কি ইসলামে বৈধ? এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো, স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য বৈধ এবং তাদের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে মূলত অনুমতি রয়েছে, যতক্ষণ না তা কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে পড়ে।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার মূলনীতি
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করো।"
(সূরা আন-নিসা: ১৯)
আরও বলেন—
"তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও প্রশান্তির সম্পর্ক।
স্তন চোষণ সম্পর্কে ইসলামের বিধান
ইসলামী শরিয়তে এমন কোনো সহিহ দলিল নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, স্বামী স্ত্রীর স্তন চুম্বন বা স্পর্শ করতে পারবে না। বরং অধিকাংশ আলেমের মতে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও উপভোগের বিষয়গুলো বৈধ, যতক্ষণ তা শরিয়তের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
অতএব, মিলনের পূর্বে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর স্তন চোষণ করা বৈধ বলে গণ্য করা হয়।
এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশের একটি অংশ হতে পারে।
ইসলামে কোন বিষয়গুলো নিষিদ্ধ?
যদিও স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনুমতি রয়েছে, তবে কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১. মাসিক চলাকালীন সহবাস
আল্লাহ বলেন—
"তারা তোমাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, তা কষ্টদায়ক বিষয়। তাই মাসিক অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)
তবে মাসিক অবস্থায় ভালোবাসা, স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতার সব বিষয় নিষিদ্ধ নয়; শুধু সহবাস নিষিদ্ধ।
২. পেছনের পথে যৌন সম্পর্ক
ইসলামে এটি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
৩. জোর-জবরদস্তি করা
ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালোবাসা ও সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অনুভূতি ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার গুরুত্ব
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন—
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।"
(জামে আত-তিরমিজি)
তাই স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা শুধু শারীরিক বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে ভালোবাসা, দায়িত্ব, সম্মান ও মানসিক প্রশান্তিও জড়িত।
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বৈধ ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতার অনেক সুযোগ রয়েছে। মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তন চোষণ করা সম্পর্কে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই সাধারণভাবে এটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত।
তবে প্রত্যেক দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মতি, ভালোবাসা এবং ইসলামী আদব বজায় রাখা জরুরি।
রেফারেন্স:
আল-কোরআন: সূরা আল-বাকারা ১৮৭, ২২২; সূরা আন-নিসা ১৯
সহিহ হাদিস: জামে আত-তিরমিজি (পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ সম্পর্কিত হাদিস)
দ্রষ্টব্য: ইসলামী বিধানের বিস্তারিত বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের আলেমদের ব্যাখ্যায় পার্থক্য থাকতে পারে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
স্বামীর জন্য বৈধ তার স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চোষণ করে উভয়ের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করা। সে ক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর দুধ তার পেটে চলে যায়, তাহলে তাতে কোন প্রকার ক্ষতি হয় না এবং স্ত্রী তার মা হয়ে যায় না। কারণ দুধ পানের মাধ্যমে হারাম হওয়ার যে সব শর্ত আছে, তা হলঃ
১। দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধ পান করতে হবে। সুতরাং তার পরে বড় অবস্থায় দুধ পান করলে হারাম হবে না।
২। পাঁচবার পান করতে হবে।
সুতরাং ২/৪ বার পান করলে কোন প্রভাব পড়ে না। আর বড় অবস্থায় ৫ বারের বেশী পান করলেও কোন ক্ষতি হয় না। (ইবনে বায, ইবনে উষাইমীন)
শিঙ্গারের সময় স্তনবৃন্ত চুষতে গিয়ে স্ত্রীর দুধ যদি স্বামীর পেতে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী কি হারাম হয়ে যাবে?
রতিক্রীড়ার
সময় স্ত্রীর দুধ যদি স্বামীর পেটে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী স্বামীর মা হয়ে
যাবে না। কারণ দুধ পান করিয়ে “মা” হওয়ার দুটি শর্ত আছেঃ
(এক) দুধ পান যেন বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার হয়।
(দুই) দুধপান যেন দুধপানের বয়সের ভিতরে হয়। আর তা হল দুই বৎসর বয়সের ভিতরে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
“আমি তো মানুষকে তার পিতা মাতার প্রতি সদাচারনের নির্দেশ দিয়েছি। জননী কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং তার স্তন্যপান ছাড়াতে দু বছর অতিবাহিত হয়।” (লুকমানঃ ১৪)
জননীগণ তাঁদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু বছর দুধ পান করাবে; যদি কেউ দুধ পান করার সময় পূর্ণ করতে চায়। (বাকারাহঃ ২৩৩)
সুতরাং দু'বছর বয়সের পরে দুধপান করলে মা প্রমাণিত হবে না। আর ‘মা’ প্রমাণিত না হলে স্ত্রী হারাম হবে না। (ইবনে উষাইমীন)
সহবাসের সময় আমার স্বামী প্রবল উত্তেজনাবসতঃ এমন অনেক অশালীন কথা বলে, যে কথা অন্য সময় বলে না। অনেক সময় সে সব বলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাতে কি তার পাপ হবে?
স্বামী স্ত্রীর মাঝে যে যৌনতা করা হয়, সেটাই অন্যের সাথে করা অশালীনতা অসভ্যতা। সুতরাং আপসের সঙ্গম বৈধ হলে প্রবল উত্তেজনার পূর্বে তৃপ্তি গ্রহণ করতে ঐ শ্রেণীর কোন কথা বলা দূষণীয় নয়। তবে তা না বললে যদি চলে, তাহলে ত্যাগ করাই উত্তম। (মুহাম্মাদ স্বালেহ আল মুনাজ্জিদ)।
সন্তান প্রসবের পর কখন মিলন বৈধ হয়?
সন্তান প্রসবের পর যখন রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকেই মিলন বৈধ। স্রাব অব্যাহত থাকলে ৪০ দিন পর্যন্ত অবৈধ। ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে স্রাব থাকলেও মিলন বৈধ।
স্বামী যদি কুশ্রী হয়, তাহলে স্ত্রী স্বামী সহবাসের সময় কোন সুশ্রী যুবককে
এবং স্ত্রী যদি কুশ্রী হয়, তাহলে স্বামী স্ত্রী সহবাসের সময় কোন সুশ্রী
যুবতীকে কল্পনায় এনে তৃপ্তি নিতে পারে কি?
এই শ্রেণীর কল্পিত পরপুরুষ বা পরস্ত্রির সহবাস এক প্রকার ব্যভিচার। সহবাসের সময় স্ত্রীর জন্য বৈধ নয় অন্য কোন সুন্দর অন্য সুস্বাস্থ্যবান পুরুষকে কল্পনা করা এবং স্বামীর জন্যও বৈধ নয় অন্য সুন্দরী সুস্বাস্থ্যবতী যুবতীকে কল্পনা করা। বৈধ নয়, পরপুরুষ বা পরস্ত্রীর নাম নিয়ে উভয়ের তৃপ্তি নেওয়া অথবা উত্তেজনা বৃদ্ধি করা। মনে মনে যাকে ভালবাসে, তার সাথে মিলন করছে খেয়াল করা। উলামাগন বলেন, “ যদি কেউ এক গ্লাস পানি মুখে নিয়েও কল্পনা করে যে, সে মদ খাচ্ছে, তাহলে তা পান করা হারাম।” ৬৪৭ (মাদখাল ২/১৯৪, ফুরু ৩/৫১, ত্বারহুত তাষবীর ২/১৯)
একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা ইনসাফ বজায় রাখা ওয়াজেব। রাত্রিবাস সবার সাথে
সমান ভাবে করলেও মিলন সকলের সাথে হয়ে ওঠে না। তাতে কি আমি গোনাহগার হব?
একাধিক স্ত্রীর মাঝে ভালবাসাকে যেমন সমানভাবে ভাগ করে বণ্টন করা যায় না, তেমনি আকর্ষণ ও মিলনও সবার সাথে সমান হওয়া জরুরী নয়। তবে নিজের পক্ষ থেকে অনিচ্ছা প্রকাশ করা উচিৎ নয়। কোন স্ত্রী না চাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু চাইলে তার হক আদায় করা উচিৎ এবং সে ক্ষেত্রে সকলের মাঝে সমতা বজায় রাখা কর্তব্য।
আরও পড়ুনঃ
অনিয়মিত মাসিক: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা: শারীরিক, মানসিক ও বৈবাহিক জীবনে এর গুরুত্ব
টেস্টোস্টেরন বা যৌন হরমোন বাড়াতে যে খাবার খাবেন। টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর খাবার
যৌ*ন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত খাদ্যাভ্যাস ও পূর্ণাঙ্গ গাইড
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?
স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে কি?
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান চুষতে পারবে কি?
স্ত্রীর লজ্জা*স্থান চো*ষা যাবে কি? স্ত্রীর লজ্জা*স্থানে মুখ দেওয়া যাবে কি?
স্ত্রীর দুধ পান করা যাবে কিনা? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
স্বামী স্ত্রীর যৌন মিলন বা সহবাসের নিয়ম
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
কিছু ভন্ড হুজুর দের তালিকা | চিনে রাখুন। ভণ্ড ধর্মীয় বক্তা চেনার উপায়
কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
ইসলামী জ্ঞান, শিক্ষা ও সচেতনতার নির্ভরযোগ্য বাংলা প্ল্যাটফর্ম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আমি জাইমা আরোহি। IslamiTune-এ আপনাকে আন্তরিক স্বাগতম।
লেখক: জাইমা আরোহি
IslamiTune একটি বাংলা ইসলামিক শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট। আমাদের লক্ষ্য হলো কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং গ্রহণযোগ্য ইসলামী স্কলারদের ব্যাখ্যার আলোকে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান সহজ, সুন্দর ও বোধগম্য ভাষায় বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

