কোরআন মাজিদ এর ১১৪ সূরার নাম ও ফজিলত | কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে

কোরআন শরিফের সূরাসমূহের নাম ও কোন সূরার কী ফজিলত? কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পূর্ণাঙ্গ গাইড 

পবিত্র কোরআন আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ বিধান হিসেবে নাজিল হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন—

"এটি এমন একটি কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকীদের জন্য এটি হিদায়াত।"

(সূরা আল-বাকারা: ২)কোরআন মাজিদ 

পবিত্র কোরআনে মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে। প্রতিটি সূরারই নিজস্ব বিষয়বস্তু, শিক্ষা ও গুরুত্ব রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— সব সূরার জন্য আলাদা আলাদা বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি। কিছু সূরার বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত সহিহ হাদিসে এসেছে, আবার অধিকাংশ সূরার মর্যাদা হলো—সেগুলো আল্লাহর বাণী এবং কোরআনের অংশ।

বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক সময় এমন দাবি করা হয় যে, "অমুক সূরা পড়লে অমুক রোগ ভালো হবে" বা "অমুক সূরা সাতবার পড়লে অমুক কাজ নিশ্চিত হবে"—কিন্তু এসবের অনেকগুলোর কোনো সহিহ দলিল নেই। তাই একজন মুসলিমের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর ভিত্তিতে আমল করা।

এই ধারাবাহিক নিবন্ধে আমরা ১১৪টি সূরার নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং যেখানে সহিহ দলিল রয়েছে সেখানে সেই সূরার ফজিলত আলোচনা করব।


কোরআনের সূরাগুলোর বিন্যাস

কোরআনের সূরাগুলো দৈর্ঘ্য ও নাজিলের সময় অনুসারে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

মাক্কী সূরা

যেসব সূরা হিজরতের আগে নাজিল হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য—

  • তাওহীদের আলোচনা

  • আখিরাতের বর্ণনা

  • ঈমান শক্তিশালী করা

  • পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা

মাদানী সূরা

যেসব সূরা হিজরতের পরে নাজিল হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য—

  • শরিয়তের বিধান

  • সামাজিক আইন

  • পারিবারিক জীবন

  • জিহাদ

  • লেনদেন

  • রাষ্ট্র পরিচালনা


কোরআনের প্রথম ২০টি সূরার নাম

ক্রমিকসূরার নামবাংলা উচ্চারণ
الفاتحةআল-ফাতিহা
البقرةআল-বাকারা
آل عمرانআলে ইমরান
النساءআন-নিসা
المائدةআল-মায়িদাহ
الأنعامআল-আন'আম
الأعرافআল-আ'রাফ
الأنفالআল-আনফাল
التوبةআত-তাওবাহ
১০يونسইউনুস
১১هودহুদ
১২يوسفইউসুফ
১৩الرعدআর-রা'দ
১৪إبراهيمইবরাহিম
১৫الحجرআল-হিজর
১৬النحلআন-নাহল
১৭الإسراءআল-ইসরা
১৮الكهفআল-কাহফ
১৯مريمমারইয়াম
২০طهত্ব-হা

সূরা আল-ফাতিহা

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা:

নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

সূরা আল-ফাতিহা কোরআনের প্রথম সূরা এবং প্রতিটি নামাজের প্রতিটি রাকাতে এটি পড়া ফরজ।

এ সূরাকে বলা হয়—

  • উম্মুল কোরআন

  • উম্মুল কিতাব

  • আস-সাবউল মাসানী


সূরা আল-ফাতিহার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"সূরা আল-ফাতিহা ছাড়া যার নামাজ, তার নামাজ পূর্ণ নয়।"

(সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরও এসেছে—

"কোরআনের মধ্যে এর মতো আর কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়নি।"

(সহিহ আল-বুখারি)

সহিহ হাদিসে আরও প্রমাণিত যে, সূরা আল-ফাতিহা রুকইয়াহ (শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে।


সূরা আল-বাকারা

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা: ২৮৬

নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এটি কোরআনের দীর্ঘতম সূরা।

এ সূরায় রয়েছে—

  • ঈমান

  • ইবাদত

  • রোজা

  • হজ

  • যাকাত

  • পরিবার

  • ব্যবসা

  • উত্তরাধিকার

  • সমাজব্যবস্থা

  • বিভিন্ন বিধান


সূরা আল-বাকারার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"তোমরা সূরা আল-বাকারা পাঠ করো। এটি গ্রহণ করা বরকত এবং তা পরিত্যাগ করা আফসোসের কারণ। জাদুকররা এর মোকাবিলা করতে পারে না।"

(সহিহ মুসলিম)

আরও এসেছে—

"যে ঘরে সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।"

(সহিহ মুসলিম)


সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।"

(সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম)


আয়াতুল কুরসির বিশেষ মর্যাদা

আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫) কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাই ইবন কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন—

"কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?"

তিনি উত্তর দেন—

আয়াতুল কুরসি।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উত্তরকে সমর্থন করেন।

(সহিহ মুসলিম)


সূরা আলে ইমরান

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা: ২০০

নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এ সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • ঈমান

  • তাওহীদ

  • ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা

  • মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর ঘটনা

  • উহুদের যুদ্ধ

  • ধৈর্য ও তাকওয়া


সূরা আলে ইমরানের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে ইমরান কিয়ামতের দিন তাদের পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।"

(সহিহ মুসলিম)

এ কারণে এ দুই সূরাকে আয-যাহরাওয়াইন (দুটি উজ্জ্বল সূরা) বলা হয়।


সূরা আন-নিসা

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা: ১৭৬

নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় মূলত আলোচনা করা হয়েছে—

  • নারীদের অধিকার

  • উত্তরাধিকার আইন

  • বিবাহ

  • পরিবার

  • এতিমদের হক

  • সামাজিক ন্যায়বিচার

ফজিলত

সহিহ হাদিসে সূরা আন-নিসার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়নি। তবে এটি কোরআনের অংশ হওয়ায় এর প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াতে সওয়াব রয়েছে।


সূরা আল-মায়িদাহ

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা: ১২০

নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এ সূরায় রয়েছে—

  • হালাল-হারামের বিধান

  • অঙ্গীকার পূরণের নির্দেশ

  • খাদ্য সম্পর্কিত বিধান

  • অজুর বিধান

  • ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কিছু ঘটনা

ফজিলত

সহিহ হাদিসে সূরা আল-মায়িদাহর জন্য নির্দিষ্ট আলাদা ফজিলত বর্ণিত হয়নি। তবে এর শিক্ষা একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধানের ভিত্তি।


সূরা আল-আন'আম

সূরার নম্বর:

আয়াত সংখ্যা: ১৬৫

নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এ সূরার মূল বিষয়—

  • তাওহীদ

  • শিরকের প্রতিবাদ

  • নবীদের দাওয়াত

  • আল্লাহর নিদর্শন

  • কিয়ামত

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা

কিছু বর্ণনায় সূরা আল-আন'আম নাজিলের সময় বহু ফেরেশতা উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন রেওয়ায়েতের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই এ ধরনের তথ্য প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থ ও আলেমদের ব্যাখ্যা যাচাই করা উচিত।


পরবর্তী (২য়) পর্বে আমরা সূরা আল-আ'রাফ (৭) থেকে সূরা আল-কাহফ (১৮) পর্যন্ত সূরাগুলোর পরিচয়, বিষয়বস্তু এবং যেসব সূরার সহিহ হাদিসে প্রমাণিত বিশেষ ফজিলত রয়েছে, সেগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। 

কোরআন শরিফের সূরাসমূহের নাম ও কোন সূরার কী ফজিলত? কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পূর্ণাঙ্গ গাইড (২য় পর্ব)

(পূর্ববর্তী পর্বের ধারাবাহিকতা)

কোরআন মাজিদের প্রতিটি সূরাই আল্লাহর কালাম। কোনো সূরার মর্যাদা অন্য সূরার তুলনায় কম নয়। তবে আল্লাহ তাআলা ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সূরার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তাই একজন মুসলিমের উচিত কোরআনের প্রতিটি সূরা নিয়মিত তিলাওয়াত করা, বুঝে পড়া এবং জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা।


সূরা আল-আ'রাফ

সূরার নম্বর:
আয়াত সংখ্যা: ২০৬
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"আল-আ'রাফ" শব্দের অর্থ হলো— উঁচু স্থান বা প্রাচীর। এ সূরায় কিয়ামতের দিন জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি উঁচু স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি

  • ইবলিসের অবাধ্যতা

  • পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা

  • তাওহীদের শিক্ষা

  • কিয়ামতের ভয়াবহতা

  • সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য

ফজিলত

সূরা আল-আ'রাফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা বিশেষ ফজিলত বর্ণিত নেই। তবে এটি কোরআনের অংশ হওয়ায় এর প্রতিটি অক্ষর পাঠে সওয়াব রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হবে।"

(জামে আত-তিরমিজি)


সূরা আল-আনফাল

সূরার নম্বর:
আয়াত সংখ্যা: ৭৫
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

"আনফাল" অর্থ হলো— যুদ্ধলব্ধ সম্পদ।

এই সূরায় মূলত আলোচনা করা হয়েছে—

  • বদর যুদ্ধ

  • আল্লাহর সাহায্য

  • মুমিনদের বৈশিষ্ট্য

  • যুদ্ধের নীতি

  • আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য

ফজিলত

সূরা আল-আনফালের নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে বর্ণিত নেই।

তবে এ সূরা একজন মুসলিমকে শিক্ষা দেয়—

  • বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।

  • বিপদের সময় ধৈর্য ধরতে হয়।

  • আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হয়।


সূরা আত-তাওবাহ

সূরার নম্বর:
আয়াত সংখ্যা: ১২৯
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এ সূরাকে "বারাআত" নামেও ডাকা হয়। এটি একমাত্র সূরা যার শুরুতে বিসমিল্লাহ নেই।

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • মুনাফিকদের পরিচয়

  • তাওবার গুরুত্ব

  • আল্লাহর পথে সংগ্রাম

  • মুমিনদের বৈশিষ্ট্য

  • তাবুক অভিযানের ঘটনা

ফজিলত

সূরা আত-তাওবার নির্দিষ্ট আলাদা ফজিলত সহিহ হাদিসে প্রমাণিত নয়।

তবে এ সূরার শিক্ষা হলো—

  • আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা করা।

  • মুনাফিকি থেকে বেঁচে থাকা।

  • ঈমানের সত্যতা প্রমাণ করা।


সূরা ইউনুস

সূরার নম্বর: ১০
আয়াত সংখ্যা: ১০৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় নবী ইউনুস (আলাইহিস সালাম), মুসা (আলাইহিস সালাম) এবং অন্যান্য নবীদের দাওয়াতের কথা এসেছে।

মূল বিষয়—

  • আল্লাহর একত্ব

  • ওহির সত্যতা

  • আখিরাত

  • আল্লাহর রহমত

ফজিলত

সূরা ইউনুসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা হুদ

সূরার নম্বর: ১১
আয়াত সংখ্যা: ১২৩
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এ সূরায় বিভিন্ন নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে—

  • নূহ (আলাইহিস সালাম)

  • হুদ (আলাইহিস সালাম)

  • সালেহ (আলাইহিস সালাম)

  • ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)

  • লুত (আলাইহিস সালাম)

  • শুয়াইব (আলাইহিস সালাম)

সূরা হুদের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"সূরা হুদ এবং এর মতো সূরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে।"

(জামে আত-তিরমিজি)

আলেমগণ বলেন, এর কারণ হলো এসব সূরায় পূর্ববর্তী জাতির শাস্তি, কিয়ামত ও দায়িত্বের কঠিন বিষয়গুলো এসেছে।


সূরা ইউসুফ

সূরার নম্বর: ১২
আয়াত সংখ্যা: ১১১
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

সূরা ইউসুফকে কোরআনের অন্যতম সুন্দর কাহিনিভিত্তিক সূরা বলা হয়।

এখানে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে—

  • ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর শৈশব

  • ভাইদের ষড়যন্ত্র

  • কারাগারের জীবন

  • ধৈর্য

  • ক্ষমা

  • আল্লাহর পরিকল্পনা

আল্লাহ বলেন—

"আমি তোমার কাছে সর্বোত্তম কাহিনি বর্ণনা করছি।"

(সূরা ইউসুফ: ৩)

ফজিলত

সূরা ইউসুফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই। তবে এর শিক্ষা মানুষের জীবনে ধৈর্য, ক্ষমা ও আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি করে।


সূরা আর-রা'দ

সূরার নম্বর: ১৩
আয়াত সংখ্যা: ৪৩
নাজিল: মাদানী (অনেক আলেমের মতে)

সূরার পরিচয়

"রা'দ" অর্থ বজ্রধ্বনি।

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • আল্লাহর ক্ষমতা

  • প্রকৃতির নিদর্শন

  • ঈমান ও কুফরের পার্থক্য

  • আল্লাহর স্মরণ

আল্লাহ বলেন—

"জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।"

(সূরা আর-রা'দ: ২৮)

ফজিলত

সূরা আর-রা'দের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা ইবরাহিম

সূরার নম্বর: ১৪
আয়াত সংখ্যা: ৫২
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় নবী ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া এবং তাওহীদের শিক্ষা রয়েছে।

বিশেষ বিষয়—

  • কৃতজ্ঞতা

  • আল্লাহর নিয়ামত

  • শয়তানের প্রতারণা

  • নবীদের দাওয়াত

ফজিলত

সূরা ইবরাহিমের নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আল-হিজর

সূরার নম্বর: ১৫
আয়াত সংখ্যা: ৯৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায়—

  • কোরআন সংরক্ষণের ঘোষণা

  • আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি

  • ইবলিসের অবাধ্যতা

  • পূর্ববর্তী জাতির ঘটনা

আল্লাহ বলেন—

"নিশ্চয়ই আমিই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

(সূরা আল-হিজর: ৯)

ফজিলত

সূরা আল-হিজরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আন-নাহল

সূরার নম্বর: ১৬
আয়াত সংখ্যা: ১২৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"নাহল" অর্থ মৌমাছি।

এই সূরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

  • সৃষ্টি জগত

  • পশু-পাখি

  • বৃষ্টি

  • মধু

  • মানুষের জীবন

মৌমাছির মধু সম্পর্কে আল্লাহ বলেন—

"তার মধ্যে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য।"

(সূরা আন-নাহল: ৬৯)

ফজিলত

সূরা আন-নাহলের নির্দিষ্ট আলাদা ফজিলত সহিহ হাদিসে বর্ণিত নেই।


সূরা আল-ইসরা (বনি ইসরাইল)

সূরার নম্বর: ১৭
আয়াত সংখ্যা: ১১১
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরার শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিরাজের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে রয়েছে—

  • পিতা-মাতার অধিকার

  • নৈতিক শিক্ষা

  • কোরআনের মর্যাদা

  • মানব জীবনের নির্দেশনা

ফজিলত

সূরা আল-ইসরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আল-কাহফ

সূরার নম্বর: ১৮
আয়াত সংখ্যা: ১১০
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

সূরা আল-কাহফে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে—

১. আসহাবে কাহফের ঘটনা
২. দুই বাগানের মালিকের ঘটনা
৩. মুসা (আলাইহিস সালাম) ও খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা
৪. যুলকারনাইনের ঘটনা


সূরা আল-কাহফের ফজিলত

সূরা আল-কাহফের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত সহিহ হাদিসে এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলো দ্বারা আলোকিত হবে।"

(আল-মুস্তাদরাক লিল হাকিম; আলবানীসহ বহু মুহাদ্দিস এটিকে সহিহ বলেছেন)

আরও এসেছে—

যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

(সহিহ মুসলিম)


পরবর্তী (৩য়) পর্বে আমরা সূরা মারইয়াম থেকে সূরা ফাতির পর্যন্ত সূরাগুলোর নাম, পরিচয় এবং প্রমাণিত ফজিলত আলোচনা করব।

কোরআন শরিফের সূরাসমূহের নাম ও কোন সূরার কী ফজিলত? কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পূর্ণাঙ্গ গাইড (৩য় পর্ব)

(পূর্ববর্তী পর্বের ধারাবাহিকতা)

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা মানুষের ঈমান, চরিত্র ও জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত। কোনো সূরার বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই কোরআন ও সহিহ হাদিসের ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ কোরআনের মর্যাদা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে কোনো ফজিলত যুক্ত করা সঠিক নয়।


সূরা মারইয়াম

সূরার নম্বর: ১৯
আয়াত সংখ্যা: ৯৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

সূরা মারইয়াম আল্লাহর একজন সম্মানিত বান্দী মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে।

এ সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া

  • ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম)-এর জন্ম

  • মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর ঘটনা

  • ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্ম

  • নবীদের শিক্ষা

  • তাওহীদের গুরুত্ব

ফজিলত

সূরা মারইয়ামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা বিশেষ ফজিলত বর্ণিত নেই।

তবে এ সূরার শিক্ষা হলো—

  • আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।

  • বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা।

  • আল্লাহর ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখা।


সূরা ত্ব-হা

সূরার নম্বর: ২০
আয়াত সংখ্যা: ১৩৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় প্রধানত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর নবুয়ত

  • ফেরাউনের সঙ্গে সংঘর্ষ

  • আল্লাহর সাহায্য

  • নামাজের গুরুত্ব

আল্লাহ বলেন—

"আমাকে স্মরণ করার জন্য নামাজ কায়েম করো।"

(সূরা ত্ব-হা: ১৪)

ফজিলত

সূরা ত্ব-হার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত প্রমাণিত নয়।


সূরা আল-আম্বিয়া

সূরার নম্বর: ২১
আয়াত সংখ্যা: ১১২
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"আম্বিয়া" অর্থ নবীগণ।

এই সূরায় অনেক নবীর ঘটনা এসেছে—

  • ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)

  • নূহ (আলাইহিস সালাম)

  • দাউদ (আলাইহিস সালাম)

  • সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)

  • আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)

  • ইউনুস (আলাইহিস সালাম)

শিক্ষা

  • আল্লাহর সাহায্য ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকে।

  • নবীরা সবাই তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন।

ফজিলত

সূরা আল-আম্বিয়ার নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আল-হজ

সূরার নম্বর: ২২
আয়াত সংখ্যা: ৭৮
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় হজ, কিয়ামত এবং আল্লাহর আনুগত্যের বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • কিয়ামতের ভয়াবহতা

  • হজের বিধান

  • কোরবানির শিক্ষা

  • আল্লাহর পথে সংগ্রাম

ফজিলত

সূরা আল-হজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা আল-মুমিনুন

সূরার নম্বর: ২৩
আয়াত সংখ্যা: ১১৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরার শুরুতেই সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন—

"নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী।"

(সূরা আল-মুমিনুন: ১-২)

মুমিনদের বৈশিষ্ট্য—

  • নামাজে খুশু

  • অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা

  • আমানত রক্ষা করা

  • পবিত্রতা বজায় রাখা

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে এ সূরার আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আন-নূর

সূরার নম্বর: ২৪
আয়াত সংখ্যা: ৬৪
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় সামাজিক পবিত্রতা ও পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান এসেছে।

বিষয়সমূহ—

  • ব্যভিচারের শাস্তি

  • পর্দার বিধান

  • অপবাদ থেকে বাঁচা

  • আল্লাহর নূর

বিখ্যাত আয়াত—

"আল্লাহ আসমান ও জমিনের নূর।"

(সূরা আন-নূর: ৩৫)

ফজিলত

সূরা আন-নূরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আল-ফুরকান

সূরার নম্বর: ২৫
আয়াত সংখ্যা: ৭৭
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"ফুরকান" অর্থ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী।

এই সূরায়—

  • কোরআনের মর্যাদা

  • রাসুলের সত্যতা

  • আল্লাহর বান্দাদের গুণাবলি

আলোচনা করা হয়েছে।

শেষ দিকে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।

ফজিলত

সূরা আল-ফুরকানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা আশ-শুআরা

সূরার নম্বর: ২৬
আয়াত সংখ্যা: ২২৭
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় বহু নবীর ঘটনা এসেছে—

  • মুসা (আলাইহিস সালাম)

  • ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)

  • নূহ (আলাইহিস সালাম)

  • হুদ (আলাইহিস সালাম)

  • সালেহ (আলাইহিস সালাম)

  • লুত (আলাইহিস সালাম)

  • শুয়াইব (আলাইহিস সালাম)

শিক্ষা

সব নবীর মূল দাওয়াত ছিল—

"তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।"

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আন-নামল

সূরার নম্বর: ২৭
আয়াত সংখ্যা: ৯৩
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"নামল" অর্থ পিঁপড়া।

এই সূরায় রয়েছে—

  • সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা

  • পিঁপড়ার ঘটনা

  • সাবা রাণীর ঘটনা

  • আল্লাহর নিয়ামত

ফজিলত

সূরা আন-নামলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা আল-কাসাস

সূরার নম্বর: ২৮
আয়াত সংখ্যা: ৮৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনের বিস্তারিত ঘটনা এসেছে।

বিষয়সমূহ—

  • জন্ম

  • ফেরাউনের প্রাসাদে বেড়ে ওঠা

  • মাদইয়ানে গমন

  • নবুয়ত লাভ

শিক্ষা

আল্লাহ যাকে সাহায্য করেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি তাকে পরাজিত করতে পারে না।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা আল-আনকাবুত

সূরার নম্বর: ২৯
আয়াত সংখ্যা: ৬৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"আনকাবুত" অর্থ মাকড়সা।

এ সূরায় ঈমানের পরীক্ষা ও ধৈর্যের কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন—

"মানুষ কি মনে করে যে, তারা শুধু এ কথা বললেই ছেড়ে দেওয়া হবে যে, আমরা ঈমান এনেছি, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?"

(সূরা আল-আনকাবুত: ২)

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা আর-রূম

সূরার নম্বর: ৩০
আয়াত সংখ্যা: ৬০
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় রোমানদের পরাজয় ও পরবর্তী বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী এসেছে।

বিষয়সমূহ—

  • আল্লাহর নিদর্শন

  • সৃষ্টি জগত

  • বিবাহের উদ্দেশ্য

  • আখিরাত

ফজিলত

সূরা আর-রূমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা লুকমান

সূরার নম্বর: ৩১
আয়াত সংখ্যা: ৩৪
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় লুকমান (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানকে দেওয়া উপদেশ বর্ণনা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—

  • শিরক থেকে বাঁচা

  • পিতা-মাতার সম্মান

  • নামাজ প্রতিষ্ঠা

  • ধৈর্য

  • অহংকার থেকে দূরে থাকা

ফজিলত

সূরা লুকমানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা আস-সাজদাহ

সূরার নম্বর: ৩২
আয়াত সংখ্যা: ৩০
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায়—

  • কোরআনের সত্যতা

  • মানুষের সৃষ্টি

  • কিয়ামত

  • মুমিনদের গুণাবলি

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুক্রবার ফজরের নামাজে সূরা আস-সাজদাহ পড়তেন বলে সহিহ হাদিসে এসেছে।

(সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম)


পরবর্তী (৪র্থ) পর্বে আমরা সূরা আল-আহযাব থেকে সূরা আল-হাশর, সূরা আল-মুলকসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ সূরাগুলোর পরিচয় ও সহিহ সূত্রে প্রমাণিত ফজিলত আলোচনা করব।

(পূর্ববর্তী পর্বের ধারাবাহিকতা)

পবিত্র কোরআনের সূরাসমূহ শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; বরং এগুলোর মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াত, শিক্ষা ও জীবন পরিচালনার নির্দেশনা। কোরআনের কোনো সূরার ফজিলত জানতে হলে অবশ্যই সহিহ কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের ওপর নির্ভর করতে হবে।


সূরা আল-আহযাব

সূরার নম্বর: ৩৩
আয়াত সংখ্যা: ৭৩
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

"আহযাব" অর্থ হলো বিভিন্ন দল বা বাহিনী। এই সূরায় মূলত খন্দকের যুদ্ধের ঘটনা এবং মুসলিম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান আলোচনা করা হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • আহযাব যুদ্ধ

  • রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা

  • নবীর পরিবারের বিধান

  • পর্দার নির্দেশ

  • মুমিনদের আদর্শ জীবন

আল্লাহ বলেন—

"নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।"

(সূরা আল-আহযাব: ২১)

ফজিলত

সূরা আল-আহযাবের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা বিশেষ ফজিলত বর্ণিত নেই। তবে এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।


সূরা সাবা

সূরার নম্বর: ৩৪
আয়াত সংখ্যা: ৫৪
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় সাবা জাতি ও দাউদ (আলাইহিস সালাম), সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা

  • অহংকারের পরিণতি

  • আখিরাতের বিশ্বাস

ফজিলত

সূরা সাবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা ফাতির

সূরার নম্বর: ৩৫
আয়াত সংখ্যা: ৪৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"ফাতির" অর্থ সৃষ্টিকর্তা।

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • আল্লাহর সৃষ্টি ক্ষমতা

  • ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য

  • আল্লাহর নিয়ামত

  • মানুষের কৃতজ্ঞতা

আল্লাহ বলেন—

"হে মানুষ! তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করো।"

(সূরা ফাতির: ৩)

ফজিলত

সূরা ফাতিরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা ফজিলত নেই।


সূরা ইয়াসিন

সূরার নম্বর: ৩৬
আয়াত সংখ্যা: ৮৩
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

সূরা ইয়াসিনকে অনেক মুসলিম "কোরআনের হৃদয়" নামে উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে যে হাদিসটি প্রচলিত আছে, সেটির বিশুদ্ধতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • রাসুলদের দাওয়াত

  • কিয়ামত

  • পুনরুত্থান

  • আল্লাহর নিদর্শন

ফজিলত সম্পর্কে সতর্কতা

অনেকে বলেন—

"সূরা ইয়াসিন পড়লে সব সমস্যা দূর হয়" বা "মৃত ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে ইয়াসিন পড়তে হবে"।

এসব বিষয়ে প্রচলিত অনেক বর্ণনার সনদ দুর্বল। তাই নির্দিষ্ট ফজিলত দাবি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

তবে কোরআনের অন্যান্য সূরার মতো সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করাও অবশ্যই সওয়াবের কাজ।


সূরা আস-সাফফাত

সূরার নম্বর: ৩৭
আয়াত সংখ্যা: ১৮২
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় ফেরেশতা, নবীদের ঘটনা এবং তাওহীদের আলোচনা রয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • আল্লাহর একত্ব

  • ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পরীক্ষা

  • নবীদের দাওয়াত

ফজিলত

সূরা আস-সাফফাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।

কোরআন শরিফ 


সূরা সোয়াদ

সূরার নম্বর: ৩৮
আয়াত সংখ্যা: ৮৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায়—

  • দাউদ (আলাইহিস সালাম)

  • সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)

  • আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)

এর ঘটনা এসেছে।

শিক্ষা

  • ক্ষমতা পেলে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া যাবে না।

  • পরীক্ষায় ধৈর্য ধরতে হবে।

ফজিলত

সূরা সোয়াদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আয-যুমার

সূরার নম্বর: ৩৯
আয়াত সংখ্যা: ৭৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"যুমার" অর্থ দলসমূহ।

এই সূরায়—

  • তাওহীদ

  • ইখলাস

  • তাওবার গুরুত্ব

  • কিয়ামতের দৃশ্য

আলোচনা করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন—

"আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।"

(সূরা আয-যুমার: ৫৩)

ফজিলত

সূরা আয-যুমারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই।


সূরা গাফির (আল-মুমিন)

সূরার নম্বর: ৪০
আয়াত সংখ্যা: ৮৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় একজন মুমিন ব্যক্তির ঘটনা এসেছে, যিনি ফেরাউনের সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেও ঈমান গোপন করেছিলেন।

বিষয়সমূহ—

  • আল্লাহর ক্ষমা

  • তাওবা

  • অহংকারের পরিণতি

ফজিলত

সূরা গাফিরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা ফুসসিলাত

সূরার নম্বর: ৪১
আয়াত সংখ্যা: ৫৪
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"ফুসসিলাত" অর্থ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত।

এই সূরায়—

  • কোরআনের সত্যতা

  • সৃষ্টির নিদর্শন

  • ঈমানের দৃঢ়তা

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

সূরা ফুসসিলাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আশ-শুরা

সূরার নম্বর: ৪২
আয়াত সংখ্যা: ৫৩
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"শুরা" অর্থ পরামর্শ।

এই সূরায় মুসলিম জীবনে পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • ওহির সত্যতা

  • আল্লাহর ক্ষমতা

  • মুমিনদের গুণাবলি

ফজিলত

সূরা আশ-শুরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আয-যুখরুফ

সূরার নম্বর: ৪৩
আয়াত সংখ্যা: ৮৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"যুখরুফ" অর্থ অলংকার বা সৌন্দর্যের বস্তু।

এই সূরায় দুনিয়ার চাকচিক্যের অস্থায়িত্ব এবং আখিরাতের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

ফজিলত

সূরা আয-যুখরুফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আদ-দুখান

সূরার নম্বর: ৪৪
আয়াত সংখ্যা: ৫৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"দুখান" অর্থ ধোঁয়া।

এই সূরায়—

  • কোরআন নাজিলের রাত

  • কাফেরদের পরিণতি

  • আখিরাতের শাস্তি

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

সূরা আদ-দুখানের জন্য প্রচলিত কিছু ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে, তবে সেগুলোর অনেকগুলোর সনদ দুর্বল। তাই সহিহ প্রমাণ ছাড়া নির্দিষ্ট দাবি করা ঠিক নয়।


সূরা আল-জাসিয়াহ

সূরার নম্বর: ৪৫
আয়াত সংখ্যা: ৩৭
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"জাসিয়াহ" অর্থ হাঁটু গেড়ে বসা।

এই সূরায় কিয়ামতের দিনের দৃশ্য এবং আল্লাহর নিদর্শন আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

সূরা আল-জাসিয়াহর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আল-আহকাফ

সূরার নম্বর: ৪৬
আয়াত সংখ্যা: ৩৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"আহকাফ" অর্থ বালুর টিলা।

এই সূরায় আদ জাতি ও হুদ (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা এসেছে।

ফজিলত

সূরা আল-আহকাফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা মুহাম্মদ

সূরার নম্বর: ৪৭
আয়াত সংখ্যা: ৩৮
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরার নাম মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে।

বিষয়সমূহ—

  • ঈমান

  • আল্লাহর আনুগত্য

  • মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য

ফজিলত

সূরা মুহাম্মদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আল-ফাতহ

সূরার নম্বর: ৪৮
আয়াত সংখ্যা: ২৯
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

"ফাতহ" অর্থ বিজয়।

এই সূরায় হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং আল্লাহর দেওয়া বিজয়ের কথা এসেছে।

আল্লাহ বলেন—

"নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।"

(সূরা আল-ফাতহ: ১)

ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরা ফাতহ নাজিল হওয়াকে বড় নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

(সহিহ আল-বুখারি)


পরবর্তী (৫ম ও শেষ) পর্বে আমরা সূরা আল-হুজুরাত থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত শেষ অংশের সূরাসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত, সম্পূর্ণ উপসংহার, সতর্কতা বার্তা প্রদান করব।

(পূর্ববর্তী পর্বের ধারাবাহিকতা)

কোরআন শরিফের সূরাসমূহের নাম ও কোন সূরার কী ফজিলত? কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পূর্ণাঙ্গ গাইড (শেষ পর্ব)

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য হিদায়াত। কোরআনের শেষ অংশের সূরাসমূহ ছোট হলেও এর মধ্যে রয়েছে ঈমান, আকিদা, চরিত্র, আখিরাত এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অসাধারণ শিক্ষা।

কোরআন 


সূরা আল-হুজুরাত

সূরার নম্বর: ৪৯
আয়াত সংখ্যা: ১৮
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

"হুজুরাত" অর্থ কক্ষসমূহ। এই সূরায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মান, মুসলিম সমাজের আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়সমূহ—

  • রাসুলের প্রতি সম্মান

  • সংবাদ যাচাই করা

  • মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব

  • উপহাস ও গীবত থেকে বাঁচা

  • তাকওয়ার গুরুত্ব

আল্লাহ বলেন—

"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক সম্মানিত যে অধিক তাকওয়াবান।"

(সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

ফজিলত

সূরা আল-হুজুরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদিসে আলাদা বিশেষ ফজিলত বর্ণিত নেই। তবে এর শিক্ষা একজন মুসলিমের উত্তম চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


সূরা কাফ

সূরার নম্বর: ৫০
আয়াত সংখ্যা: ৪৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় আলোচনা করা হয়েছে—

  • কিয়ামত

  • পুনরুত্থান

  • আল্লাহর জ্ঞান

  • মানুষের আমল সংরক্ষণ

ফজিলত

সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেক সময় জুমার দিনে খুতবায় সূরা কাফ তিলাওয়াত করতেন।

(সহিহ মুসলিম)


সূরা আয-যারিয়াত

সূরার নম্বর: ৫১
আয়াত সংখ্যা: ৬০
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"যারিয়াত" অর্থ বিক্ষেপকারী বাতাস।

এই সূরায়—

  • আল্লাহর কসম

  • রিজিকের মালিকানা

  • ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা

  • আখিরাত

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আত-তূর

সূরার নম্বর: ৫২
আয়াত সংখ্যা: ৪৯
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় আল্লাহর শাস্তি ও মুমিনদের পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আন-নাজম

সূরার নম্বর: ৫৩
আয়াত সংখ্যা: ৬২
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায়—

  • ওহির সত্যতা

  • মিরাজের ঘটনা

  • মূর্তিপূজার অসারতা

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আল-কামার

সূরার নম্বর: ৫৪
আয়াত সংখ্যা: ৫৫
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"কামার" অর্থ চাঁদ।

এই সূরায় পূর্ববর্তী জাতির ধ্বংসের ঘটনা এবং কিয়ামতের সতর্কতা রয়েছে।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আর-রহমান

সূরার নম্বর: ৫৫
আয়াত সংখ্যা: ৭৮
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের আলোচনা করা হয়েছে।

বারবার এসেছে—

"অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে?"

ফজিলত

সূরা আর-রহমানের জন্য প্রচলিত অনেক ফজিলতের কথা বলা হয়, কিন্তু নির্দিষ্ট সহিহ হাদিসে বিশেষ ফজিলত প্রমাণিত নয়।

তবে এ সূরা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা শেখায়।


সূরা আল-ওয়াকিয়া

সূরার নম্বর: ৫৬
আয়াত সংখ্যা: ৯৬
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় কিয়ামতের ঘটনা এবং মানুষের তিন শ্রেণির আলোচনা করা হয়েছে—

  • অগ্রগামী

  • ডান দিকের অধিকারী

  • বাম দিকের অধিকারী

ফজিলত সম্পর্কে সতর্কতা

অনেকে বলেন—

"প্রতিদিন সূরা ওয়াকিয়া পড়লে দারিদ্র্য দূর হয়।"

এ বিষয়ে প্রচলিত বর্ণনাটি সহিহ হিসেবে প্রমাণিত নয়।

তবে কোরআন তিলাওয়াত নিজেই সওয়াবের কাজ।


সূরা আল-হাদিদ

সূরার নম্বর: ৫৭
আয়াত সংখ্যা: ২৯
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরায়—

  • আল্লাহর মহত্ত্ব

  • দুনিয়ার অস্থায়িত্ব

  • দান-সদকা

  • ঈমানের গুরুত্ব

আলোচনা করা হয়েছে।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আল-মুজাদালাহ

সূরার নম্বর: ৫৮
আয়াত সংখ্যা: ২২
নাজিল: মাদানী

সূরার পরিচয়

এই সূরার শুরুতে একজন নারীর অভিযোগ ও আল্লাহর তা শুনে নেওয়ার ঘটনা এসেছে।

শিক্ষা

আল্লাহ বান্দার কথা শোনেন এবং তার অবস্থা জানেন।

ফজিলত

নির্দিষ্ট কোনো সহিহ ফজিলত নেই।


সূরা আল-মুলক

সূরার নম্বর: ৬৭
আয়াত সংখ্যা: ৩০
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

"মুলক" অর্থ রাজত্ব।

এই সূরায় আল্লাহর ক্ষমতা ও সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা আল-মুলকের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"কোরআনের একটি সূরা আছে যাতে ত্রিশটি আয়াত রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, অবশেষে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সেটি হলো তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক।"

(জামে আত-তিরমিজি, আবু দাউদ)

অনেক আলেম রাতে সূরা আল-মুলক পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।


সূরা আল-কাফিরুন

সূরার নম্বর: ১০৯
আয়াত সংখ্যা:
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় তাওহীদ ও কুফরের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।

ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমানোর আগে সূরা আল-কাফিরুন পাঠ করতেন বলে বর্ণনা এসেছে।

(সুনানে আবু দাউদ)


সূরা আল-ইখলাস

সূরার নম্বর: ১১২
আয়াত সংখ্যা:
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় আল্লাহর একত্ব ও গুণাবলি সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।

সূরা আল-ইখলাসের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

"সূরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।"

(সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম)


সূরা আল-ফালাক

সূরার নম্বর: ১১৩
আয়াত সংখ্যা:
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর আগে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন।

(সহিহ আল-বুখারি)


সূরা আন-নাস

সূরার নম্বর: ১১৪
আয়াত সংখ্যা:
নাজিল: মাক্কী

সূরার পরিচয়

এই সূরায় শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

ফজিলত

সূরা ফালাকের মতো সূরা নাসও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিত পাঠ করতেন।

(সহিহ আল-বুখারি)


উপসংহার

পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরাই মুসলিম জীবনের জন্য পথনির্দেশনা। কোনো সূরা শুধু দুনিয়াবি উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম নয়; বরং কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করার জন্য।

কোরআনের প্রকৃত উপকার পেতে হলে—

  • নিয়মিত তিলাওয়াত করতে হবে।

  • অর্থ বুঝে পড়তে হবে।

  • শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে।

  • সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে।

যেসব সূরার বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে এসেছে, সেগুলো আমরা উল্লেখ করেছি। আর যেসব সূরার নির্দিষ্ট ফজিলত প্রমাণিত নয়, সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।

কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিলাওয়াতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব রয়েছে। তাই মুসলিমের জীবনে কোরআন শুধু পড়ার বিষয় নয়; বরং বুঝে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয়।


রেফারেন্স যাচাই সংক্রান্ত সতর্কতা

এই নিবন্ধে ব্যবহৃত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের রেফারেন্সগুলো নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ যেমন সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে আত-তিরমিজি ইত্যাদির আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো ফজিলত বা হাদিস প্রকাশ করার আগে পাঠকদের উচিত নিজ নিজ এলাকার নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুহাদ্দিসদের মাধ্যমে রেফারেন্স যাচাই করে নেওয়া। কারণ ইন্টারনেটে প্রচলিত অনেক বর্ণনা দুর্বল বা ভিত্তিহীন হতে পারে।



  • ১১৪ সূরার নাম

  • কোরআনের সূরাসমূহের তালিকা

  • সূরা ইখলাসের ফজিলত

  • সূরা বাকারার ফজিলত

  • সূরা মুলকের ফজিলত

  • কোরআন ও হাদিসের আলোকে সূরার ফজিলত

অনিয়মিত মাসিক: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?

নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা: শারীরিক, মানসিক ও বৈবাহিক জীবনে এর গুরুত্ব

টেস্টোস্টেরন বা যৌন হরমোন বাড়াতে যে খাবার খাবেন। টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর খাবার

যৌ*ন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত খাদ্যাভ্যাস ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়?

স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান মুখে নেওয়া কি জায়েজ আছে কি?

স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের লজ্জাস্থান চুষতে পারবে কি?

স্ত্রীর লজ্জা*স্থান চো*ষা যাবে কি? স্ত্রীর লজ্জা*স্থানে মুখ দেওয়া যাবে কি?

স্ত্রীর দুধ পান করা যাবে কিনা? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

স্বামী স্ত্রীর যৌন মিলন বা সহবাসের নিয়ম

কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে

কিছু ভন্ড হুজুর দের তালিকা | চিনে রাখুন। ভণ্ড ধর্মীয় বক্তা চেনার উপায়

কনডম ব্যবহার করা কি ইসলামে জায়েয? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

ইসলামী জ্ঞান, শিক্ষা ও সচেতনতার নির্ভরযোগ্য বাংলা প্ল্যাটফর্ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আমি জাইমা আরোহি। IslamiTune-এ আপনাকে আন্তরিক স্বাগতম।

লেখক: জাইমা আরোহি

IslamiTune একটি বাংলা ইসলামিক শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট। আমাদের লক্ষ্য হলো কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং গ্রহণযোগ্য ইসলামী স্কলারদের ব্যাখ্যার আলোকে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান সহজ, সুন্দর ও বোধগম্য ভাষায় বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Zaima Arohi - IslamiTune Islamic Content Blogger

জাইমা আরোহি একজন বাংলা ইসলামিক কনটেন্ট ব্লগার। তিনি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামিক জীবনধারা, ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা, আমল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় সহজ ও সুন্দর ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

IslamiTune-এ প্রকাশিত ইসলামিক নিবন্ধগুলো আল-কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামিক উৎসের আলোকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সঠিক ইসলামিক জ্ঞান ও জীবন গঠনের দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া।

জাইমা আরোহি সম্পর্কে আরও জানুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url