স্ত্রীর স্তন চুষা স্বামীর জন্য যায়েজ কি? What to suck the wife's breast? স্ত্রীর স্তন চোষা কি স্বামীর জন্য জায়েজ? কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যা

স্ত্রীর স্তন চোষা কি স্বামীর জন্য জায়েজ? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি (পর্ব-১)

স্ত্রীর স্তন চুষা স্বামীর জন্য যায়েজ কি?

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটি পবিত্র ও বৈধ সম্পর্ক। বিবাহের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারী পরস্পরের জন্য হালাল হয়ে যান। এই সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা, মায়া, দয়া, সম্মান এবং পারস্পরিক অধিকার রয়েছে।

দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এর মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—স্বামী কি স্ত্রীর স্তন স্পর্শ বা চুম্বন করতে পারবেন? এটি কি ইসলামে বৈধ?

এই বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি হলো, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য বৈধ এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা বৈধ সীমার মধ্যে অনুমোদিত। তবে সব বিষয়ে ইসলামের আদব, শালীনতা এবং সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি।


কুরআনের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক

আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা ও প্রশান্তির সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ বলেন:

"আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।"
(সূরা আর-রূম: ২১)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বিবাহের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক চাহিদা পূরণ নয়; বরং মানসিক শান্তি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।


স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে ইসলামের মূলনীতি

ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর জন্য বৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অনুমোদন, যতক্ষণ না কোনো বিষয় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্রস্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা আগমন করো।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২৩)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর বৈধ ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে ইসলাম প্রশস্ততা দিয়েছে, তবে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।


স্ত্রীর স্তন স্পর্শ বা চুম্বনের বিধান

ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, স্বামীর জন্য স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশ উপভোগ করা বৈধ, কারণ বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হালাল হন।

তাই সাধারণভাবে:

  • স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করা।

  • ভালোবাসার প্রকাশ করা।

  • আদর ও ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ করা।

এসব বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত।

স্তন যেহেতু নারীর শরীরের একটি অংশ, তাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে এ বিষয়ে মূলত নিষেধাজ্ঞা নেই।


স্ত্রীর স্তন চোষা এবং দুধ পান করার বিষয়

অনেক সময় প্রশ্ন আসে—যদি স্ত্রীর স্তন চোষার সময় দুধ মুখে চলে আসে, তাহলে কী হবে?

ইসলামী দৃষ্টিতে প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে দুধ সম্পর্ক (রিদা‘আ) সৃষ্টি হয় না। কারণ দুধ সম্পর্কের বিধান শিশুকালের দুধপানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"দুধপানের সম্পর্ক সেই দুধপানের দ্বারাই হয় যা ক্ষুধা নিবারণের বয়সে (শৈশবে) হয়।"
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে শিশুর মতো দুধ সম্পর্কের বিধান প্রযোজ্য নয়।


ইসলামে লজ্জাশীলতার গুরুত্ব

যদিও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বৈধ, তবুও ইসলাম লজ্জাশীলতা ও শালীনতার শিক্ষা দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।"
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

তাই স্বামী-স্ত্রীর উচিত:

  • একে অপরের সম্মান বজায় রাখা।

  • ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখা।

  • অশালীনতা থেকে দূরে থাকা।


পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব

দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়ের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামী-স্ত্রীর উচিত:

  • একে অপরের অনুভূতি বোঝা।

  • কোনো বিষয়ে অস্বস্তি থাকলে তা আলোচনা করা।

  • জোর বা চাপ প্রয়োগ না করা।

ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কই সবচেয়ে সুন্দর।


সন্তান থাকা অবস্থায় সতর্কতা

যদি স্ত্রী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মায়ের দুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই:

  • শিশুর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

  • কোনো ধরনের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইসলাম সবসময় ভারসাম্য ও কল্যাণের শিক্ষা দেয়।


স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকাশের বৈধ উপায়

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ভালোবাসা প্রকাশ হতে পারে:

  • সুন্দর কথা বলার মাধ্যমে।

  • একে অপরের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে।

  • সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে।

  • বৈধ ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে।

একটি সুখী দাম্পত্য জীবন শুধু শারীরিক সম্পর্কের ওপর নয়, বরং ভালো আচরণ ও আন্তরিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।


(পর্ব-২ এ থাকবে)

  • স্ত্রীর স্তন চোষা সম্পর্কে আলেমদের বিস্তারিত মতামত

  • কোন বিষয়গুলো স্বামী-স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ

  • সহবাসের ইসলামী আদব

  • দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখার উপায়

  • কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সুখী পরিবার গঠনের নির্দেশনা

নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা: কারণ, গুরুত্ব বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের জন্য আদর্শ পাত্র-পাত্রী নির্বাচন | কুরআন সুন্নাহর আলোকে 

অনিয়মিত মাসিক: কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি করণীয় | Irregular periods: causes, symptoms, risks and what to do

স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা কি হারাম? এতে কি স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়? ইসলাম কী বলে?

স্ত্রীর স্তন চোষা কি স্বামীর জন্য জায়েজ? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি (পর্ব-২)

আলেমদের মতামত ও ইসলামী ব্যাখ্যা

স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো—বিবাহের মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য বৈধ হন। তাদের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশ, আদর-সোহাগ এবং বৈধ ঘনিষ্ঠতা ইসলামে অনুমোদিত।

অধিকাংশ ইসলামী আলেমের মত অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীর স্তন স্পর্শ করা বা ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চুম্বন করা বৈধ। কারণ বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর জন্য একে অপরের শরীর উপভোগ করা মূলত অনুমোদিত, যতক্ষণ না কোনো স্পষ্ট নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে তা পড়ে।

ইমামগণ উল্লেখ করেছেন, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য পোশাকস্বরূপ।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।"
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)

এই আয়াতের অর্থ হলো—স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য নিরাপত্তা, আবরণ, শান্তি ও ঘনিষ্ঠতার মাধ্যম।


স্ত্রীর স্তন চোষার সময় দুধ পান হয়ে গেলে কী হবে?

কখনো স্ত্রীর স্তন চোষার সময় দুধ মুখে চলে আসতে পারে। এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—এতে কি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে?

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে দুধ সম্পর্ক (রিদা‘আ) প্রতিষ্ঠিত হয় না।

কারণ দুধ সম্পর্কের বিধান শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"দুধপানের কারণে যে সম্পর্ক হারাম হয়, তা শিশুকালের দুধপানের কারণেই হয়।"
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

তাই প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর ক্ষেত্রে এ কারণে স্ত্রী দুধমা হয়ে যাবেন না এবং বিবাহের কোনো ক্ষতি হবে না।


কোন বিষয়গুলো স্বামী-স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ?

ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ককে অনুমতি দিয়েছে, তবে কিছু সীমারেখাও নির্ধারণ করেছে।

১. মাসিক চলাকালীন সহবাস

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তারা তোমাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, তা কষ্টদায়ক বিষয়। তাই মাসিক অবস্থায় নারীদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যেও না।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)

অর্থাৎ মাসিক অবস্থায় যৌন সম্পর্কের একটি নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


২. হারাম পথে যৌন সম্পর্ক

ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ককে অনুমোদন করেছে, কিন্তু এমন কোনো পদ্ধতি বা কাজ যা শরিয়তে নিষিদ্ধ, তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মুসলিমের দায়িত্ব হলো আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলা।


৩. জোর করা বা কষ্ট দেওয়া

দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হলো ভালোবাসা ও দয়া। তাই স্বামী বা স্ত্রী কারো ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় যা অন্যজনের জন্য কষ্টকর বা ক্ষতিকর।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।"
(তিরমিজি)

অর্থাৎ একজন ভালো স্বামী বা স্ত্রী হওয়ার মানে হলো সুন্দর আচরণ করা।


সহবাসের ইসলামী আদব

ইসলাম শুধু বৈধতার কথা বলেনি, বরং সুন্দর আচরণ ও আদবের শিক্ষাও দিয়েছে।

১. আল্লাহর নাম স্মরণ করা

সহবাসের আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা উত্তম।

২. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

৩. ভালোবাসা ও কোমলতা

স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরের সঙ্গে কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করা।

৪. গোপনীয়তা রক্ষা করা

স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা ইসলামে নিন্দনীয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মর্যাদার মানুষ হবে সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর তার গোপন বিষয় প্রকাশ করে।"
(সহিহ মুসলিম)


সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়

শুধু শারীরিক ঘনিষ্ঠতা একটি সুখী সংসারের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন:

ভালো ব্যবহার

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সঙ্গে সুন্দর ভাষায় কথা বলবেন।

বিশ্বাস

বিশ্বাস ছাড়া কোনো সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

ক্ষমাশীলতা

ছোটখাটো ভুল ক্ষমা করে দেওয়া সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

সহযোগিতা

সংসারের দায়িত্ব পালনে একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত।


ইসলাম কেন স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে গুরুত্ব দিয়েছে?

ইসলামে পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। একটি ভালো পরিবার তৈরি হয় যখন স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের প্রতি দয়া, সম্মান ও দায়িত্বশীলতা দেখান।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।"
(সূরা আর-রূম: ২১)

এটি প্রমাণ করে যে দাম্পত্য জীবনের মূল সৌন্দর্য হলো ভালোবাসা ও রহমত।


কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বলা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে স্ত্রীর স্তন স্পর্শ করা বা চুম্বন করা সাধারণভাবে বৈধ, কারণ বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হালাল। এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয় না এবং প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর ক্ষেত্রে দুধ সম্পর্কও সৃষ্টি হয় না।

তবে মুসলিম দম্পতির উচিত সবসময় ইসলামের আদব, লজ্জাশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা। দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় নয়; বরং ভালোবাসা, বিশ্বাস, দয়া ও আল্লাহভীতির মধ্যেই রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সুন্দর, শান্তিময় ও বরকতময় দাম্পত্য জীবন দান করুন। আমিন। 

 

স্ত্রীর স্তন স্বামী কি চুষতে পারবে ও দুধ পান কি স্বামীর জন্য হারাম না জায়েজ? জেনে নিন কয়েকজন আলেমের কাছে থেক। লজ্জা নয় জানতে হবে।

 ত্রীর স্তন চুষা ও দুধ পান করা – মানব জীবনের বিরাট একটি অধ্যায় যৌন সম্ভোগ ও স্বাদে উচ্ছল।

যেখানে থাকে মধুময় মিলন ও তৃপ্তির কল্লোল। অপার্থিব সুখের সজীব দিগন্ত। পরম আনন্দে হারিয়ে যাওয়ার স্নিগ্ধ আহ্বান।  

এই সম্ভোগকে আরো মধুময় ও ফলপ্রসূ করতে ইসলামে রয়েছে বিস্তর নির্দেশনা।

যা মুমিন দাম্পত্য জীবনে ছড়িয়ে দেয় নির্মল সুবাস ও শান্তির বারি। 

ইসলাম মুসলিম দম্পতির বন্ধনকে গেঁথে দেয় চিরস্থায়ী সুতোয়। যা এপার থেকে অপার – জীবনের রঙিন বসন্ত থেকে কবরে শয়ন ; হাশর থেকে জান্নাত ও চিরশান্তির দিগন্ত বিস্তৃত। 

স্ত্রীর স্তন চুষা – হালাল না কি হারাম

মুসলিম দম্পতি যুগলের যৌন সম্ভোগে মূল হচ্ছে বৈধতা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। কাজেই তোমরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তোমাদের শস্যক্ষেত্রে বিচরণ করো। (সুরা বাকারা – ২২৩)

এই আয়াতে যৌন মিলনে দম্পতি যুগলের ইচ্ছা ও রুচিকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

কাজেই যৌন সম্ভোগে স্বামী স্ত্রী তাদের ইচ্ছা ও আগ্রহকে প্রধান্য দিতে পারবে।

এই নীতিতে আপন স্ত্রীর স্তন চোষা স্বামীর জন্য জায়েজ। এটাকে ফোর প্লে বিবেচনা করা হয়। ফোর প্লে ইসলাম সমর্থিত।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – জাবির – রাদিয়াল্লাহু আনহু – কে বলেন –

;">তুমি কেন কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না। যাতে তুমি তার সাথে খেলতে আর সেও তোমার সাথে খেলতো। ( সহিহ বুখারি – ৪৯৪৯)

এই হাদিসে ‘খেলা’ দ্বারা ফোর প্লে উদ্দেশ্য নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। আর ফোর প্লের মধ্যে আমাদের আলোচিত বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

তবে যে সব ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে নিষেধ এসেছে তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

যেমন পায়ুপথে সহবাস, ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে সহবাস, মুহরিম ও রোজা অবস্থায় সহবাস ইত্যাদি।

মুসলিম স্কলারদের অভিমত

বিন বায – রাহিমাহুল্লাহ – বলেন –

;">‘স্বামী তার স্ত্রী স্তন বা স্তন থেকে দুধ চুষতে সমস্যা নেই।’ (ফাতাওয়া বিন বায)

আরবের বিখ্যাত ফিকাহ বোর্ড ‘আল লাজনাতুদ দায়িমা’ কে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় –

‘স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর স্তন চুষা হালাল। তার পেটে স্ত্রীর দুধ পৌঁছে গেলেও হারাম হবে না।’ ( ফাতাওয়া আল লাজনাতুদ দায়িমা ১৯/৩৫১)


শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন –

‘বড় বয়সে দুধ পান প্রভাব সৃষ্টি করে না। কেননা দুই বছর বয়স পর্যন্ত দুধ পান করলে রাযায়াত সাবিত হয়। কিন্তু বড় বয়সে তার কোনো প্রভাব নেই।

এই নীতিতে কেউ আপন স্ত্রীর দুধ পান করে নিলে স্ত্রীর জন্য স্বামী ছেলে গণ্য হবে না।’ ( ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ – ৩/৩৩৮)

ইমাম কাসানি – রাহিমাহুল্লাহ – বলেন –

‘শুদ্ধ বিবাহের দ্বারা স্ত্রী জীবিত থাকাকালে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখা ও স্পর্শ করা হালাল হয়ে যায়।’ (বাদায়িউস সানায়িই – ২/২৩১)

ইবনু আবিদিন বলেন –

;">ইমাম আবু ইউসুফ ইমাম আবু হানিফাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, যে তার স্ত্রীর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে এবং স্ত্রীও তার যৌনাঙ্গ করে – যাতে তাদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

;">এটা কী ঠিক? তিনি বলেন এতে অসুবিধা নেই। আমি আশাবাদি সে এর উত্তম প্রতাদান পাবে। (রদ্দুল মুহতার – ৬/৩৬৭)

স্ত্রীর দুধ পান – হালাল না কি হারাম

স্ত্রীর দুধ পান – স্বামীর পেটে স্ত্রীর দুধ চলে গেলে বা স্বামী তার স্ত্রীর দুধ পান করে নিলে তাদের বিবাহ বন্ধনে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না।

কেননা দুই বা আড়াই বছর থেকে বেশি বয়সে দুধ পান করলে তার দ্বার দুধ মায়ের হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয় না।

কাজেই স্বামী তার স্ত্রীর দুধ পান করে নিলে তাদের মধ্যে স্বামী স্ত্রী সম্পর্কই বহাল থাকবে। মা ছেলের সম্পর্ক সৃষ্টি হবে না।

তবে স্বামী তার স্ত্রীর দুধ পান করা থেকে বিরত থাকা উত্তম। কেননা অনেক আলেম কারণ ছাড়া স্ত্রীর দুধ পানকে মাকরুহ আবার অনেকে হারাম বলেছেন।

যদিও বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ি তার হারাম বা মাকরুহ নয়। কেননা স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান হারাম প্রমাণকারী কোনো দলিল নেই।

বড় বয়সে দুধ পান – দুধ মা না হওয়ার দালায়িল

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –

‘আর মায়েরা তাদের সন্তানদেকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি দুধ পান করানোর মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়।’ (সুরা বাকারা- ২৩৩)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ – রাদিয়াল্লাহু আনহু – এর ছেলে থেকে বর্ণিত –

‘একদিন এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে সফরে বের হলেন। ঐ সফরে তাদের একটি সন্তান জন্ম নেয়।

সে সন্তান ছিলো খুব দূর্বল। যার ফলে তার মায়ের দুধ পান করতে পারছিলো না।

তাই স্বামী তার স্ত্রীর স্তন চুষে সন্তানের মুখে দুধ দিতেন। এভাবে দুধ চুষতে গিয়ে তিনি তার স্ত্রীর দুধ পান করার স্বাদ অনুভব করেন।

সফর থেকে ফিরে এ ঘটনা হযরত আবু মুসা (রা.) কে জানালে তিনি বলেন তোমার স্ত্রী তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে। ( অর্থাৎ বিবাহ সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।)

ঐ লোকটি পুনরায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর কাছে এসে আবু মুসা (রা.) উক্ত ফাতাওয়া বর্ণনা করলে তিনি বলেন – কী করে তার স্ত্রী হারাম হবে?

অথচ রাসুল – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেছেন – প্রাপ্ত বয়স্ত হওয়ার পর দুধ পান করলে কোনো সমস্যা হয় না। আবু দাউদ – ২০৫৯ )

নিদর্শনা আবু মুসা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – যে মত দিয়েছিলেন সেটা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ সঠিক মনে করেননি।

তাই তিনি তার কাছে যা সঠিক সেটা পেশ করেছেন।

অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে তাদের সম্পর্কে কোন সমস্যা হবে না।

কেননা ‍শিশু বয়সে দুধ পান করলে বিবাহ নিষিদ্ধ হয় কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে গেলে দুধ পান কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন –

‘এক আনসারি ব্যক্তি তার বাদীকে বিবাহ করতে চাইলেন। কিন্তু এই আনসারি ব্যক্তির স্ত্রী ঐ বাদীটিকে তার দুধ পান করিয়ে দেন।

(যাতে করে তার স্বামী বিবাহ করতে না পারে) আনসারি ঘরে ফিরে আসলে তার স্ত্রী বললো এই বাদি তোমার মেয়ে হয়ে গিয়েছে।

কেননা আমি তাকে আমার দুধ পান করিয়ে দিয়েছি।

অতপর ঐ আনসারি উমর (রা.) কে এ ঘটনা অবহিত করলে উমর (রা.) শক্তভাবে বলেন – তুমি ফিরে যাও।

তোমার বাদী পূর্বের ন্যায় তোমার বাদী হিসেবেই আছে (তোমার মেয়ে হয়নি অর্থাৎ তুমি তাকে বিবাহ করতে পারবে)

আর তোমার স্ত্রীর কথা প্রত্যাখাত। ( মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক – ১৩৮৯০ )

উক্ত হাদিস সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে প্রাপ্ত বয়সে দুধ পান করার দ্বারা বিবাহ বন্ধনে সমস্যা হয় না।

অতএব স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করে নিলে বিবাহ বন্ধনে সমস্যা হবে না।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত

ড. আব্দুল্লাহ আল ফকিহ বলেন –

স্ত্রীর স্তন থেকে যদি দুধ নির্গত হয় আর তা স্বামী পান করে নেয় তাহলে তা স্বামী স্ত্রী সম্পর্কে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করবে না।

কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ আহলে ইলমের মতে দুই প্রাপ্তবয়সে দুধ পান করলে রাদায়াত সাবিত হয় না।

( আল ফাতাওয়াল মুয়াসারা ফি হায়াতিল যাউজিয়্যাহ – ২/১৪)


শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন –

‘বড় বয়সে দুধ পান প্রভাব সৃষ্টি করে না। কেননা দুই বছর বয়স পর্যন্ত দুধ পান করলে রাযায়াত সাবিত হয়। কিন্তু বড় বয়সে তার কোনো প্রভাব নেই।

এই নীতিতে কেউ আপন স্ত্রীর দুধ পান করে নিলে স্ত্রীর জন্য স্বামী ছেলে গণ্য হবে না।’ ( ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ – ৩/৩৩৮)

আরবের বিখ্যাত ফিকাহ বোর্ড ‘আল লাজনাতুদ দায়িমা’ কে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় –

‘স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর স্তন চুষা হালাল। তার পেটে স্ত্রীর দুধ পৌঁছে গেলেও হারাম হবে না।’

স্ত্রীর দুধ পান এবং লজ্জাস্থান লেহন করার বিধান

জিজ্ঞাসা–১১২৪: আসসালামু আ’লাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। মুফতি সাহেব, বাচ্চাদের দুই বছর পর দুগ্ধপান বন্ধ করে দেওয়া হয় । যদি তারপর সহবাসের সময় স্ত্রী নিজে তার দুগ্ধ যদি পান করতে বলে তাহলে করা যাবে কি? শুধু মাত্র নিজেদের মধ্যে তৃপ্তি ভোগ করার উদ্দেশ্যে। অনুরূপভাবে সহবাসের আগে শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে তৃপ্তি বাড়ানোর জন্য কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে এবং স্ত্রী স্বইচ্ছাতে যৌনাঙ্গ এর কিছু অংশ লেহন, চুম্বন–এগুলো করা কি ঠিক হবে ? আমাদের চার ফিকাহ এই নিয়ে কী রায় দিয়েছে এবং আপনার রায়টিও দেবেন হজরত । সবার আগে আমরা আল্লাহকে ভালবাসি, তাই শরীয়াত মুতাবিকই আমল করবো। আমারা নিজেদের মধ্যে শুধুমাত্র ভালোবাসা বাড়ানোর জন্য এগুলো ভেবেছি ।– Sk saud zaif

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, প্রায় সকল আলেম এব্যাপারে একমত যে, স্ত্রীর দুধ পান করা স্বামীর জন্য হারাম। (জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/৪৬)। কেননা, স্ত্রীর দুধ তার সন্তানের জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ

মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু বছর দুধ পান করাবে। (সূরা বাকারা ২৩৩)

তবে স্ত্রীর স্তন চোষা, লেহন করা, মর্দন করা, চুমো দেয়া নিষেধ নয়। হাদিসে এসেছে,

كان رسول الله ﷺ يُلاعبُ أهله ، ويُقَبلُها

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)

সুতরাং স্ত্রীর স্তনে যদি দুধ থাকে তাহলে স্বামীকে সর্তক থাকতে হবে, যেন দুধ মুখে না আসে। যদি দুধ মুখে আসার আশঙ্কা থাকে সে ক্ষেত্রে চোষণ থেকে বিরত থাকা উচিত। (মাহমূদিয়া কাদিম ১২/৩১০, শামী ১/৩১)

দুই. স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থান চুমো দেয়া বা লেহন করার নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোরআন হাদিসে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না বিধায় বিষয়টিকে অকাট্য হারাম বলার সুযোগ নেই। তবে এর মাঝে ইসলামী শিষ্টাচার-বহির্ভূত কিছু দিক রয়েছে। যেমন,

১. লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক (বীর্য, মযি ইত্যাদি) জিহ্বা, মুখ ইত্যাদিতে লাগবে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক স্পর্শ করাকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না।

২. মানুষের শরীরের সবচে’ সম্মানিত অঙ্গ হলো চেহারা। আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকির জায়গা। সুতরাং সম্মানিত জায়গাকে নাপাকির জায়গায় স্পর্শ করানো অবশ্যই নিন্দনীয়।

৩. মুখ দ্বারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করা হয়, যিকির করা হয়। এই মুখে নাপাক লাগানো এবং নাপাকির স্থান চুমো দেয়া বা Suck করা বড় গর্হিত কাজ।

৪. মুখের অনেক জীবাণু লজ্জাস্থানে রোগ সংক্রামণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া লজ্জাস্থানের জীবাণু মুখে এবং মুখের ভায়া হয়ে ভেতরে রোগ সংক্রামণ করার আশংকা থাকে। দুর্ঘটনাবশত ধারালো দাঁতও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসব কারণে ফকিহগণ এটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে কিছু ফকিহ লজ্জাস্থানে চুমু দেয়ার (লেহন নয়) অবকাশ দিলেও এটাকে পরিহার করাকে উত্তম বলেছেন। যেমন, প্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ বুরহানুদ্দীন মাহমুদ ইবন তাজুদ্দীন রহ. বলেন,

إذا أدخل الرجل ذكره في فم امرأته يكره لأنه موضع قراءۃ القرآن فلا یلیق به إدخال الذکر به

‘যদি পুরুষ নিজের লজ্জাস্থান স্ত্রীর মুখে প্রবেশ করায় তাহলে তা মাকরুহ হবে। কেননা, মুখ কোরআন তেলাওয়াতের স্থান। সুতরাং এখানে লজ্জাস্থান প্রবেশ করানো অনুচিত।’ (আল্মুহীতুল বুরহানী ৮/১৩৪)

আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা (৯/৩২)– এসেছে,

وصرح الحنابلة بجواز تقبیل الفرج قبل الجماع ، وکراہته بعدہ

‘হাম্বলি ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, সহবাসের পূর্বে হলে স্ত্রীর লজ্জাস্থান চুমো দেয়া জায়েয এবং পরে মাকরুহ।’

দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা উত্তরে লিখেছেন,

تقبیل أحد الزوجین فرج الآخر میں ان آداب کی رعایت ناممکن ہے، پھر زبان جس سے اللہ کا ذکر کیا جاتا ہے اس سے شرمگاہ کو بوسہ لینا وغیرہ کسی بھی طرح مناسب معلوم نہیں ہوتا، نیز یہ جانوروں کا طریقہ ہے؛ اس لیے بہرصورت ایک مسلمان کو اس سے پرہیز کرنا چاہیے، باقی اگر کسی نے غلبہ شہوت میں ایسی حرکت کرلی اور شرمگاہ پر نجاست نہیں لگی ہوئی تھی تو ناجائز یا حرام نہیں کہا جائے گا۔

‘স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে চুমো দেয়ার মাঝে এসব (ইসলামী) শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ রাখা অসম্ভব। তাছাড়া যবান যা দ্বারা আল্লাহর জিকির করা হয় তা দ্বারা লজ্জাস্থানে চুমো ইত্যাদি দেয়া কোনোভাবেই সঙ্গত মনে হয় না। এটা পশুদের স্বভাবও বটে। তাই একজন মুসলমানের উচিত সর্বাবস্থায় এ থেকে বিরত থাকা। তবে কেউ যদি অত্যাধিক উত্তেজনার কারণে এ কাজ করে ফেলে এবং লজ্জাস্থানে নাপাকি না থাকে তাহলে নাজায়েয কিংবা হারাম বলা যাবে না।’ (http://www.darulifta-deoband.com/home/ur/Halal–Haram/150188)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url